হিমন্তবিশ্ব শর্মা। — ফাইল চিত্র।
ভোটগ্রহণে জালিয়াতি ও অশান্তির অভিযোগ ওঠার জেরে অসমের উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বেবিল্যান্ড ইংলিশ হাই স্কুলের বুথে আজ ফের ভোটগ্রহণ হয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা ভোটের পর থেকে বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন। এ দিন তিনি রাজস্থানে খাটু শ্যাম মন্দিরে পুজো দিয়ে বলেন, “বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ অসমে আগের চেয়েও ভাল ফল করবে। ১২৬টি আসনের মধ্যে আমরা ৯০ থেকে ১০০টি আসন পেতে পারি।”
কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী-র একাধিক পাসপোর্ট ও বিদেশে সম্পত্তির মালিকানা থাকার যে অভিযোগ এনেছেন— তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে শর্মা বলেন, “আমি মন্দিরে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে চাই না। তবে, ফটোশপ ও এআই ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হয়েছে এবং আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।”
এ দিকে তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব আজ গুয়াহাটিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে দাবি করেন, “অসমের ইতিহাসে সর্বাধিক ভোট পড়া প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাবেরই প্রতিফলন। পরিবর্তন চাইছে বলেই জনতা এত ভোট দিয়েছে। হিমন্ত অনেক সরকারি প্রকল্প দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছেন। অনেকেই সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও বিজেপির ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হবে।”
সুস্মিতার আরও বক্তব্য, এক দিকে বিজেপি অসমে নতুন করে এনআরসি করবে, আবার এসআইআরও করা হবে। বাংলায় এসআইআরের নামে কী চলেছে, তা দেখেছেন অসমবাসী। এনআরসির সময়কার হেনস্থাও তাঁরা ভোলেননি। তাই ভয়ে তাঁরা সরকার-বদল চাইছেন। তাঁর দাবি, “অসমে ফের এনআরসি-এসআইআর হলে বঙ্গের মতো অসমেও রুখে দাঁড়াবে তৃণমূল। আমরা কেউ এসআইআরের বিরোধী নই, কিন্তু অযথা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থার বিরোধী। আগের এনআরসি ঠিক না করে নতুন এনআরসি কেন হবে! অসম চুক্তিও বিজেপি ভেঙেছে।”
সুস্মিতার মতে, “বিজেপি ইচ্ছে করেই বিহুর আগে এক দফায় ভোট সেরে ফেলেছে। কারণ এ’বারেই জ়ুবিন গর্গ-বিহীন প্রথম বিহু। যদি ১৩ এপ্রিলের পরে ভোট হত, জ়ুবিন (তাঁর অনুরোগীদের জনরোষ) একাই বিজেপিকে হারিয়ে দিতেন।”
গত কয়েক দিনে হিমন্তবিশ্ব শর্মার বারবার মেজাজ হারানো, অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা, প্রসঙ্গে সুস্মিতা বলেন, “যে ভাষায় ও সুরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী কথা বলছেন, তা অসমের পক্ষে লজ্জার। রাজ্যের ইতিহাসেও নজিরবিহীন।” সুস্মিতার দাবি, পুলিশ এখনও হিমন্তর কথায় চলছে ও হিমন্তকেই রিপোর্ট করছে। বলেন, ‘‘বোঝাই যাচ্ছে বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভাই ভাই।”