তেলঙ্গানার ইঞ্জনিয়ার মোহন নায়েক জারুপলার বাড়িতে উদ্ধার সোনার গয়না। ছবি: সংগৃহীত।
ওড়িশার পর এ বার তেলঙ্গানা। আবার সেই ইঞ্জিনিয়ারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিস মিলল। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় তেলঙ্গানার পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার মোহন নায়েক জারুপলার বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যায় রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)। ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়।
সূত্রের খবর, তল্লাশি অভিযানের সময় ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে নগদ ১৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ১৫টি ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এসিবি। তদন্তকারী সূত্রের খবর, নিজ়ামাবাদ জেলায় ২০ একরের উপর কৃষিজমির হদিস মিলেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি। এসিবি সূত্রে খবর, ইঞ্জিনিয়ারের সাতটি ফ্ল্যাটের হদিস মিলেছে। তার মধ্যে তিনটি রয়েছে কোমপল্লিতে এবং চারটি গাছিবোওলিতে। এই সাতটি ফ্ল্যাটের মিলিত বর্তমান বাজারদর সাড়ে ৭ কোটি টাকা।
মিঞাপুরে বিশাল রিসর্ট, বাংলো-সহ মোট তিনটি বাড়ি রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের। এ ছাড়াও কুকটপল্লিতে আরও একটি বিলাসবহুল বাড়ির হদিস মিলেছে। নিজ়ামপেটে একটি ভিলাও রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের। তল্লাশি অভিযানে শুধু একটি ঠিকানা থেকেই ১৮ কোটি টাকা মিলেছে। এ ছাড়াও ব্যাঙ্কে দেড় কোটি টাকা রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারের একটি ঠিকানায় পাওয়া গিয়েছে আড়াই কেজি সোনা। যার বাজারদর ২ কোটি টাকা। এ ছাড়াও ৬ কেজি রুপোর গয়নাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন ঠিকানায় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, মোবাইল ফোন, বিলাসবহুল গাড়ি-সহ মোট ১০০ কোটি সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলে এসিবি সূত্রের খবর। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ১০০ কোটিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। ইঞ্জিনিয়ারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বাকি সম্পত্তির হদিস পেতে চাইছে এসিবি।
প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই ওড়িশার কন্ধমলে এক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে ২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানান, নগদ ২ কোটি টাকা ছাড়াও দামি ফ্ল্যাট, কয়েক একর জমির উপরে তৈরি চারতলার বাড়ি, রাজ্যের চার জেলায় বেনামে বেশ কয়েকটি জমির হদিস মিলেছে।