ছবি: সংগৃহীত।
বয়স মাত্র ৩০। এরই মধ্যে বুকে ব্যথা, ক্লান্তিবোধ, দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে রোজ। চিকিৎসক রক্তের পরীক্ষা দিতে দেখা গেল কোলেস্টেরলের মাত্রা উর্ধ্বমুখী। কম বয়সে কোলেস্টেরলের সমস্যা এখন আর নতুন কিছু নয়। ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে অল্পবয়সিদের মধ্যেও কোলেস্টেরলের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে তাতে ভয়ের কারণ নেই। অল্প বয়সে সচেতন হলে ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কী ভাবে কমবয়সিরা কোলেস্টেরলকে বশে রাখবেন?
১। খাবার বুঝে খাওয়া: ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলা এবং কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া কমাতে হবে। এর বদলে খাদ্যতালিকায় ওটস, শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: সামুদ্রিক মাছ, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিড) যুক্ত করা উচিত। রান্নায় সয়াবিন বা ডালডার পরিবর্তে অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল ব্যবহার করা ভালো।
২। শুয়ে বসে সময় কাটালে চলবে না: জীবনযাপন কোলেস্টেরল বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম, যেমন—হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা উচিত। এটি ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে।
৩। ধূমপান, মদ্যপান ছাড়তে হবে: ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা অবিলম্বে ত্যাগ করতে হবে, কারণ ধূমপান ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়।
৪। কমাতে হবে ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন, মেদ বৃদ্ধি বিশেষ করে পেটের চর্বি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
৫। মানসিক চাপ থেকে দূরে: অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম পরোক্ষভাবে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং মন শান্ত রাখতে যোগাসন বা ধ্যান করা উচিত।
আর যা মনে রাখবেন
পরিবারে যদি হৃদরোগের ধারা থাকে, তবে ২০ বছরের পর থেকেই বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো উচিত।