নরেন্দ্র মোদীর হাতে ঝালমুড়ির বাটি তুলে দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (বাঁ দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
‘বেমিসাল বারা সাল’! বাংলা তর্জমায় অতুলনীয় ১২ বছর।
ভারতের ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর নতুন নজির স্থাপন উপলক্ষে বুধবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে হল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএর বিশেষ বৈঠক। আর সেখানে নিজের হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে মোদীর হাতে তুলে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে মোদীর প্রচারের সময়েও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিল ঝালমুড়ি। গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে ভোটপ্রচারে গিয়েছিলেন মোদী। সড়কপথে ফেরার সময় তাঁর কনভয় দাঁড়িয়েছিল ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড়ের কাছে। ‘চবনলাল স্পেশ্যাল ঝালমুড়ি’ দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই ঘটনার জেরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউ।
সম্প্রতি আনন্দবাজার ডট কমকে বিক্রম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়ে যাওয়ার পর থেকে নানা রকম হুমকি পাচ্ছেন তিনি। এমনকি, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে টেক্সট মেসেজ এবং হোয়াটস্অ্যাপে ধারাবাহিক ভাবে হুমকি-বার্তা আসছে। এ বিষয়ে ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ করার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিজেপির বিপুল জয়ের পরে এ বার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বানানো ঝাড়মুড়ি খেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৪ সালে ২৬ মে মোদী শপথ নেন। সেই থেকে টানা ৪,৩৯৯ দিন ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবে দায়িত্ব পালনের নতুন নজির স্থাপন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁর ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরতে গোটা দেশে মঙ্গলবার থেকে এক মাসের প্রচারাভিযান শুরু করেছে এনডিএ। সেই উপলক্ষেই দিল্লিতে ছিল এই বৈঠক।
বিজেপির দাবি, ‘নির্বাচিত’ প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদের হিসেবে জওহরলাল নেহরুকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মোদী। ‘পদ্ম’ শিবিরের যুক্তি, নেহরু টানা ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। ওই পাঁচ বছরকে বাদ দিয়ে বিজেপি দাবি করছে, মোদী এ বার টানা প্রধানমন্ত্রিত্বে থাকার নিরিখে নেহরুকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন।
মোদী স্বয়ং তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের পর্বকে ‘বিশ্বাস, বিকাশ ও জনকল্যাণের ১২ বছর’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এক্স-হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘আমাদের সরকার গত ১২ বছরে বিশ্বাস, বিকাশ ও জনকল্যাণের প্রতি সমর্পিত থেকেছে। ১৪০ কোটি দেশবাসীর আশীর্বাদ ও ‘রাষ্ট্রই প্রথম’-এর ভাবনা থেকে আমাদের তরুণ, মহিলা ও কৃষক ভাই-বোনদের ক্ষমতায়নে কোনও কসুর করেনি। আমাদের চেষ্টার ফলে পরিকাঠামো থেকে ডিজিটাল বিপ্লবে আজ ভারত দুনিয়ায় পরিচিতি পেয়েছে। বিকশিত ভারতের সঙ্কল্পকে সত্যি করতে আমরা সেবা, সুশাসন ও সমৃদ্ধির এই পথে নিরন্তর এগোতে থাকব।’’