Meenakshi Natarajan

মামলা গোপনের অভিযোগে রাজ্যসভা ভোটে মনোনয়ন বাতিল মধ্যপ্রদেশে! কংগ্রেসের নিশানায় নির্বাচন কমিশন

২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় শাসকদল বিজেপির ১৬৩ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ৬৬ জন বিধায়ক রয়েছে। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে তিনটি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে দু’টিতে বিজেপি এবং একটিতে কংগ্রেসের জেতার কথা ছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ২২:০০
মীনাক্ষী নটরাজন।

মীনাক্ষী নটরাজন। —ফাইল চিত্র।

মধ্যপ্রদেশের তিনটি রাজ্যসভা আসনে ভোটের আগেই জয় পাকা করে ফেলল বিজেপি। মামলা গোপনের অভিযোগে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন মঙ্গলবার খারিজ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশের নেতৃত্বে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল দিল্লির নির্বাচন সদনে গেলেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি।

Advertisement

২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় শাসকদল বিজেপির ১৬৩ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ৬৬ জন বিধায়ক রয়েছেন। আগামী ১৮ জুন তিনটি রাজ্যসভা আসনে সেখানে ভোট হওয়ার কথা ছিল। জয়ের জন্য কোনও প্রার্থীকে অন্তত ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হত। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে বিজেপির দু’টি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস একটি আসনে লড়লেও বিজেপি তিনটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল। কংগ্রেস আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, তাদের বিধায়কদের কয়েক জনকে ভাঙিয়ে হরিয়ানা-হিমাচল প্রদেশের মডেলে রাজ্যসভা ভোট জয়ের ছক কষছে বিজেপি।

রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দল তাই নিজেদের বিধায়কদের কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকে পাঠানোর জন্য চার্টার্ড উড়ানের ব্যবস্থা করেছিল। মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদীয় দলের সঙ্গে বিমানে সওয়ার হয়েছিলেন নটরাজনও। কিন্তু মনোনয়ন বাতিলের খবর মেলার পরে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়। এর ফলে বিজেপির তিন প্রার্থী— তরুণ চুঘ, রজনীশ অগ্রবাল এবং মহেশ কেওয়াটের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল। প্রসঙ্গত, ইউপিএ জমানায় যুব কংগ্রেসের নেত্রী নটরাজন ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৪ এবং ২০১৯-এ তিনি ওই আসনে পরাস্ত হয়েছিলেন।

বিজেপির তরফে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ অগস্ট এ শ্রীলতা নামে এক মহিলা হায়দরাবাদের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মীনাক্ষী নটরাজন-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ধারা ৩৫৬, ৬১, ৪৫, ৪৬, ৩৫১(২), ৩(৫) এবং ৭৯।

২০২৫-এর ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত নটরাজনকে একটি নোটিস জারি করে, যাতে তাঁকে হাজির হয়ে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাঁর আইনজীবী ২৪ অক্টোবর একটি পাল্টা হলফনামা দাখিল করেন, যেখানে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয় এবং অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। অভিযুক্ত পক্ষ মামলাটি খারিজ করার আবেদনও জানায়। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে এবং শুনানি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, নটরাজন তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় বিচারাধীন মামলার বিবরণ প্রকাশ করেননি, যা ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের লঙ্ঘন। তাই রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

মামলা গোপনের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভা ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল করার পরেই দিল্লিতে সক্রিয় হয় কংগ্রেস। বেণুগোপালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন দফতরে পৌঁছোয়। সূত্রের মতে, সন্ধ্যা ৬টার পর কমিশনের অধিকাংশ কর্মকর্তা দফতর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। যদিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ দফতরে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেনি। কমিশন জানিয়েছে, বুধবার বেলা ১২টায় কংগ্রেস প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়েছে। নটরাজন-সহ মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভোপালে সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলেছে। নটরাজন বলেন, ‘‘বিজেপি-কে জয় পাইয়ে দিতেই পরিকল্পিত ভাবে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগত সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও যখন তৃতীয় প্রার্থী দিয়েছিল তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা এমন রাজনীতি করছে, যার লক্ষ্য সংবিধান ও গণতন্ত্রকে পদদলিত করা।’’ মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় অবশ্য ঘটনার নেপথ্যে কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘নটরাজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ বিজেপি এনেছে, সেই মামলার তথ্য তেলঙ্গানা থেকেই এসেছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন