Food Adulteration

খাবারে ভেজাল মেশানোকে ‘খুনের চেষ্টা’ বলে ধরা হবে! জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না, বলল হায়দরাবাদ পুলিশ

খাবারে ভেজাল মেশানোকে আর ছোটখাটো অপরাধ হিসাবে দেখা হবে না। স্পষ্ট করে দিল হায়দরাবাদ পুলিশ। গঠন করা হচ্ছে একটি টাস্ক ফোর্সও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮
খাবারে ভেজাল মেশানো রুখতে কড়া পদক্ষেপ হায়দরাবাদ পুলিশের।

খাবারে ভেজাল মেশানো রুখতে কড়া পদক্ষেপ হায়দরাবাদ পুলিশের। — প্রতীকী চিত্র।

খাবারের মধ্যে ভেজাল মেশালে তা এ বার থেকে ‘খুনের চেষ্টা’র সমতুল্য অপরাধ বলে ধরে নেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভিসি সজ্জনর। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবেন না তাঁরা। খাবারের মধ্যে ভেজাল মেশানো বন্ধ করতে পুলিশ এবং খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে খাবারে ভেজাল সংক্রান্ত বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার। ওই বৈঠকের পরেই কড়া বার্তা দেন সজ্জনর। যাঁরা খাবারে ভেজাল মেশান, তাঁদের ‘ভেজাল মাফিয়া’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি। যে যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের‌ নির্দেশ দেওয়া, তার প্রধান কাজই হবে শহর থেকে 'ভেজাল মাফিয়া'দের নির্মূল করা। এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে হায়দরাবাদ পুলিশ।

হায়দরাবাদের পুলিশপ্রধান সতর্ক করে দিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। খাবারে ভেজাল মেশানোকে আর কোনও ছোটখাটো অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না বলেও সাবধান করে দিয়েছেন তিনি। সজ্জনরের কথায়, “এই ধরনের কাজকে আমরা আর শুধু সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে দেখব না।আমরা এগুলিকে খুনের চেষ্টার সমতুল্য অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করব। কারণ এই ধরনের অপরাধ সরাসরি জনস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে।”

হায়দরাবাদ পুলিশের যৌথ টাস্ক ফোর্স শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার ধারে দোকানগুলিতে অভিযান চালাবে। পাশাপাশি হায়দরাবাদের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণকেন্দ্রেও অতর্কিত হানা দেবে টাস্ক ফোর্স। এই কাজ সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি এসওপি-ও তৈরি করছে হায়দরাবাদ পুলিশ। কোথাও সন্দেহজনক কিছু ঠেকলেই সেই খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। ভেজাল ধরা পড়লে গ্রেফতারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সিপি জানান, যাঁরা একই অপরাধ বার বার করছেন বলে অভিযোগ উঠবে, তাঁদের ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন অ্যাক্ট’ অনুসারে সতর্কতামূলক কারণে আটক করা হবে। ওই অভিযুক্তদের ব্যবসার লাইসেন্সও চিরকালের জন্য বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সজ্জনর। শহরবাসীরা যাতে এই সংক্রান্ত অভিযোগ পুলিশকে জানাতে পারেন, তার জন্য শীঘ্রই একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ নম্বর চালু করতে চলেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। চালু করা হবে একটি টোল ফ্রি নম্বরও। যাঁরা অভিযোগ জানাবেন, তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন সজ্জনর।

Advertisement
আরও পড়ুন