(বাঁ দিকে) রাহুল গান্ধী এবং এমকে স্ট্যালিন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বিরোধী জোটকে দুর্বল করার জন্য রাহুল গান্ধীকে দায়ী করল এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে। দলের মুখপত্র ‘মুরাসলি’-তে সোমবার রাহুলকে নিশানা করে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। সেখানে ‘রাজনৈতিক ভাবে অপরিণত’, ‘বিশ্বাসভঙ্গকারী’ ইত্যাদি বিশেষণ ব্যবহার করে রাহুলকে আক্রমণ করা হয়েছে।
কেবল মুখপত্রেই নয়, সমাজমাধ্যমেও রাহুল এবং কংগ্রেসকে নিশানা করেছে ডিএমকে। স্ট্যালিনের সঙ্গ ছেড়ে তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তলপতির দলকে সমর্থন করায় লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করেছে ডিএমকে-র আইটি সেল। আইটি সেলের বক্তব্য, দুর্দিন কংগ্রেসকে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল ডিএমকে। কিন্তু জল থেকে ডাঙায় উঠেই ‘চকচকে খেলনার’ লোভে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। চকচকে খেলনা বলতে এখানে বিজয়ের দলের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তকেই বোঝানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৮ জুন দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে ঐক্যের বার্তা দেন রাহুল। ডিএমকে-র খোঁচা, বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে রায়বরেলীর কংগ্রেস সাংসদের। বিরোধী জোটের শরিকদের প্রতি রাহুলের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে ডিএমকে-র মুখপত্রে। সেখানে লেখা হয়েছে, “রাহুল ঐক্যের কথা বলছেন। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী ঐক্যকে দুর্বল করলেন কে? এই সূত্রেই কেরলের উদাহরণ দিয়ে ডিএমকে-র অভিযোগ, সে রাজ্যে গিয়ে বামেদের সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল। ‘ইন্ডিয়া’-র শরিক বাম দলগুলির এই বিষয়ে রাহুলের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া উচিত বলেও মনে করে স্ট্যালিনের দল। তাদের বক্তব্য, বাম নেতাদের এই প্রশ্ন তোলা উচিত যে, কেন বিজেপির পরিবর্তে শরিক দলগুলিকে নিশানা করতেই বেশি উৎসাহী কংগ্রেস?
সমাজবাদী পার্টি (এসপি), বাম দলগুলি সাম্প্রতিক অতীতে কী ভাবে রাহুলের সমালোচনা করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে ডিএমকে-র প্রতিবেদনে। তামিলনাড়ুর উদাহরণ দিয়ে ডিএমকে-র অভিযোগ, জোট গড়ে লড়াই করেও পরে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে টিভিকে প্রধান বিজয়ের সঙ্গী হয়েছে কংগ্রেস। দুই বাম দল, সিপিএম এবং সিপিআই আর দলিত সংগঠন ভিসিকে-ও বিজয়ের টিভিকে সরকারকে সমর্থন করেছে। বিষয়টিকে আগাগোড়া ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসাবেই অভিহিত করেছে স্ট্যালিনের দল। এই ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিবাদে ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকেও যোগ দেয়নি ডিএমকে। তবে বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়ে কোনও কর্মসূচি নিলে তাতে তারা শামিল হবে বলে জানিয়েছে। এই আবহে কংগ্রেসের সঙ্গে আরও দূরত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে রাহুলকে নিশানা করল তামিলনাড়ুর প্রাক্তন এই শাসকদল।