সমুদ্রে ভাসমান রুশ জাহাজ। ছবি: রয়টার্স।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে আরও বেশি করে অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, মস্কো থেকে নয়াদিল্লি তেল কেনার পরিমাণ এতটাই বাড়িয়েছে যে, চিনগামী একটি তেলবোঝাই জাহাজ দক্ষিণ চিন সাগরে অভিমুখ বদলে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, চিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এমন আরও কিছু তেলবোঝাই জাহাজ তাদের অভিমুখ বদলে অন্য দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
সমুদ্রে ভাসমান জাহাজের উপরে নজরদার প্রযুক্তির পরিসংখ্যান বলছে, ২১ মার্চ নাগাদ মেঙ্গালুরু পৌঁছোবে রুশ জাহাজ অ্যাকোয়া টাইটান। ওই জাহাজে রয়েছে অপরিশোধিত তেল। সূত্রের খবর, জানুয়ারির শেষে বাল্টিক সাগর বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল সেটি। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, চিনের রিঝাওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কারটি। মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ সেটি সমুদ্রে অভিমুখ বদলে ফেলে। সূত্রের খবর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই সেটি অভিমুখ বদলে ফেলে। চলতি মাসেই ট্রাম্প জানান, বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে সাময়িক ভাবে তেল কিনতে পারে ভারত। তার পরেই আফ্রাম্যাক্স অভিমুখ বদল করে বলে খবর।
ভারত যদিও স্পষ্ট জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ তারা কখনওই করেনি। দেশে শক্তির জোগান নিশ্চিত করতে কারও থেকে কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই নয়াদিল্লির।
পণ্যবাহী জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ভর্টেক্সের পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত সাতটি জাহাজ মাঝসমুদ্রে অভিমুখ বদল করেছে। সেগুলি প্রাথমিক ভাবে চিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পরে ভারতের অভিমুখে চলছে। সব ক’টি ভারতেই আসছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। সূত্র বলছে, এক সপ্তাহে রাশিয়া থেকে ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি। শুধু ভারত নয়, অন্য কয়েকটি দেশও আবার নতুন করে রাশিয়া থেকে নতুন করে তেল কেনা শুরু করেছে। ফলে চিনে যে সব তেলবাহী জাহাজ রাশিয়া পাঠাচ্ছিল, সেগুলির বেশ কয়েকটি অভিমুখ পরিবর্তন করে। প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনায় কমানোর পরে চিন তা বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ বার চিনগামী কিছু তেলের জাহাজকেই ভারত এবং কয়েকটি দেশের উদ্দেশে পাঠাচ্ছে রাশিয়া।
মার্চের শুরুতে আমেরিকার প্রশাসন রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ছাড় দেয় ভারতকে। তবে শর্ত একটাই, এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বেসেন্ট লিখেছেন, “ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। ইরানের জন্য বিশ্বের জ্বালানির বাজার রুদ্ধ হতে চলেছে। তাই ওই চাপ কমানোর জন্যই এই সাময়িক উদ্যোগ।”
আমেরিকা মনে করে তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। তাই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করায় ভারতের উপর চাপ তৈরি করে হোয়াইট হাউস। এই কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই যুক্তিতে ভারতের উপর যে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা-ও প্রত্যাহার করে নেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি।