Crude Oil Price

তেল কেনার খরচ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ ভারতের

অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরীর মতে, দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম পুরোপুরি বিশ্ব বাজার নির্ভর নয়। এর সঙ্গে রাজনীতিও জড়িয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৪
অপরিশোধিত তেল নিয়ে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছল ভারতীয় জাহাজ ‘জগ লাডকি’। বুধবার।

অপরিশোধিত তেল নিয়ে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছল ভারতীয় জাহাজ ‘জগ লাডকি’। বুধবার। ছবি: পিটিআই।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ইরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করতেই গ্যাসের জোগান নিয়ে চিন্তা ঘুম কেড়েছিল ভারতের। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে যখন সেই সমস্যা কমানোর চেষ্টা চলছে, তখনই আবার আশঙ্কা বাড়াল অশোধিত তেল। বিশ্ব বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের তেল মিলিয়ে-মিশিয়ে কেনে দেশ। যে ‘বাস্কেট’ থেকে কেনা হয়, এ বার তার দাম পৌঁছে গেল ব্যারেল পিছু ১৪৬.১ ডলারে। সূত্রের দাবি, দাম দেখে মাথায় হাত পড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলের। এতে আমদানি খরচ লাফিয়ে বাড়বে ভারতের। তার প্রভাব দেশের বাজারে পেট্রল-ডিজ়েলের খুচরো দামকে ঠেলে তুলবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষত কিছু দিন আগে যেহেতু বাড়িতে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।

‘পেট্রলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেল’-এর তথ্য বলছে, চলতি মাসের ১৮ দিনে ভারতের জন্য নির্দিষ্ট ‘বাস্কেট’ থেকে তেল কেনার গড় খরচ হয়েছে ব্যারেলে ১১১.৪ ডলার করে। তা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ছিল যথাক্রমে ৬৩ ও ৬৯ ডলারের সামান্য বেশি। আশঙ্কা, ভারতের জন্য বরাদ্দ তেলের দৈনিক খরচ যে ভাবে ১৫০ ডলারের দিকে ছুটছে, তাতে আরও চড়বে গড় দামও।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ দেশে তেলের চাহিদার বেশির ভাগটাই আমদানি করতে হয়। তাই সেই খরচ বাড়লে অর্থনীতিকে ভুগতে হবে। আশঙ্কা বাড়িয়ে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বুধবার বলেন, “অশোধিত তেলের দাম ক্রমশ বাড়ছে। এটা আমাদের উপর প্রভাব ফেলবে। তবে আপাতত দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের খুচরো দাম বাড়ছে না।” যদিও ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাকে উড়িয়েও দেননি তিনি।

ভারতীয় ‘বাস্কেট’ ১৩০ ডলার ছোঁয়ার পরে কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন মন্তব্য করেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন অশোধিত তেলের ব্যারেল ১৩০ ডলারের ঘরে থাকলে সামগ্রিক ভাবে অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়বে। অর্থ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে তিনি এটাও জানান, কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করছে কত দিন দাম চড়া থাকবে তার উপর। যদি ৬-৯ মাস ধরে তা ১৩০ ডলারে থাকে, তা হলে আগামী অর্থবর্ষে (২০২৬-২৭) আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৪ থেকে ৬.৭ শতাংশে নেমে যেতে পারে। মূল্যবৃদ্ধি ৫.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে। বাড়বে রাজকোষ ঘাটতি, বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের ঘাটতিও। একাংশের মতে আশঙ্কা বাড়ছে, কারণ ভারতের তেল কেনার দাম এখন ১৩০ ডলারের অনেকটাই উপরে।

অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরীর মতে, দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম পুরোপুরি বিশ্ব বাজার নির্ভর নয়। এর সঙ্গে রাজনীতিও জড়িয়ে। এখন অশোধিত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা যেমন কম, তেমনই পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু রাজ্যে নির্বাচন এসে পড়ায় দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দামও হয়তো কিছু দিন বাড়বে না। তবে তাঁর প্রশ্ন, তেল সংস্থাগুলি কত দিন এই ক্ষতি বহন করবে? এখন না হলেও, একটা সীমার পরে দাম বাড়াতেই হবে।

আরও পড়ুন