বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। — ফাইল চিত্র।
পাকিস্তানে ১২৫ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার নিন্দা করল ভারত। এটিকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখতে নারাজ নয়াদিল্লি। এটি পাকিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলেই মনে করছে ভারত। দিল্লি চাইছে, গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার ঘটনায় অবিলম্বে তদন্ত শুরু করুক ইসলামাবাদ।
ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে। সেখানে লাহৌর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ফারুকাবাদে রয়েছে শ্রী গুরু সিংহ সভা সাহিব গুরুদ্বার। সম্প্রতি এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী ১২৫ বছরের পুরনো ওই গুরুদ্বারটি ভেঙে ফেলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে বসবাসকারী শিখদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ফারুকাবাদের ঘটনার নিন্দা করেছে নয়াদিল্লিও। পবিত্র ওই গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
এক বিবৃতিতে রণধীর বলেন, “শিখদের ধর্মীয় স্থানে এই ভাঙচুর অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই পরিকল্পিত ভাঙচুরের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।” স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না করার বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের মতে, “এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ধরনের ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে এবং তাঁদের উপাসনাস্থলে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ চলেই যাচ্ছে।”
পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং সিঁদুর অভিযান পরবর্তী সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। সন্ত্রাসবাদে মদত এবং সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে বার বার পাকিস্তানকে নিশানা করেছে ভারত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এ নিয়ে ইসলামাবাদকে তুলোধনা করেছে নয়াদিল্লি। এ বার সে দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ফের পাকিস্তানকে বিঁধল ভারত।
ফারুকাবাদের ঘটনায় যাতে পাকিস্তান সরকার অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে, সেই দাবিও তুলল নয়াদিল্লি। বিবৃতিতে রণধীর জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। গুরুদ্বারের ভেঙে ফেলা অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছে ভারত। ফারুকাবাদের ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের ‘নতুন ভাবমূর্তি’ তুলে ধরতে চাইছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান যে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই সামাল দিতে ব্যর্থ, তা বার বার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। এ অবস্থায় ফারুকাবাদের ঘটনায় নয়াদিল্লি কড়া বিবৃতি দিল।