—প্রতীকী চিত্র।
ইরান ও আমেরিকা সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাক-ভূমিকা প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ‘দালাল রাষ্ট্র’ হিসাবে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি। সেই সঙ্গে এটাও বলেছে বিষয়টি নতুন নয়, ওয়াশিংটন বারবার পাকিস্তানকে কাজে লাগিয়েছে দৌত্য ও মধ্যস্থতায়।
কূটনৈতিক শিবিরের মতে, বর্তমানে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভূমিকা যতই আলোচনার মধ্যে আসছে, অস্বস্তি বাড়ছে মোদী সরকারের। ঘরোয়া রাজনীতিতে কংগ্রেস চাপ তৈরি করছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই বিশ্বের প্রায় সর্বত্র সংসদীয় দূত পাঠিয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করতে চেয়েছিল ভারত। তা যে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট। তবে পাশাপাশি সেবা তীর্থ (সাউথ ব্লক) এও মনে করছে— চিন ও আমেরিকা, তালিবান এবং আমেরিকা, সৌদি এবং ইরানের মধ্যে অতীতে যে ভাবে মধ্যস্থতা করেছে ইসলামাবাদ, এখন তা করা অনেকটাই অসম্ভব।
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ আজ বলেছেন, ‘‘গত কাল রাতে বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, ভারত দালাল রাষ্ট্র নয়। কথাটা হয়তো বাক্যার্থে সত্যি। কিন্তু এটাও ঠিক যে, আমাদের কূটনীতির বিপুল ব্যর্থতা, ভাষ্য তৈরির ক্ষেত্রে অপারগতা একটি ভাঙাচোরা দেশকে দালাল রাষ্ট্র বানিয়েছে। বিদেশমন্ত্রীর একটি বাক্যে স্বঘোষিত রাষ্ট্রগুরুর কূটনৈতিক রেকর্ড মুছে দেওয়া যায় না।’’ প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান দালাল রাষ্ট্র বলা হচ্ছে। অথচ ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে যখন মধ্যস্থতার প্রয়াস করেছে ভারত, তখন মোদীকে ‘রাষ্ট্রগুরুর’ মহিমা দেওয়া হয়েছে।
তবে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষে ইরান বনাম ইজ়রায়েল, আমেরিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সংঘাতকে সামলানো কার্যত অসম্ভব। এটা ঘটনা যে, গত এক বছরে পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অনেকটাই উন্নতি ঘটিয়েছেন। পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের সংখ্যাও যথেষ্ট। ইরানের নতুন ধর্মনায়ক মোজতবা খামেনেই পাকিস্তানের উদ্দেশে সদর্থক এবং সৌভ্রাতৃত্বের বার্তাও দিয়েছেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও জটিলতা রয়েছে বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি।
পাক-মাটিতে আলাদা করে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি না থাকলেও, গত কয়েক দশক ধরে আমেরিকার সেনা এবং অস্ত্র সরঞ্জামের ভাঁড়ার ক্রমশ বেড়েছে। বিষয়টি ইরানের চোখ এড়িয়েছে এমনটা নয়। আরও একটি বিষয় হল, পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত নৈকট্য। গত বছর উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক চুক্তি সই হয়েছে। পাকিস্তানের ধসে পড়া অর্থনীতিতে অক্সিজেনও যোগাচ্ছে সৌদি। প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থই হল, দু’টি দেশের কেউ আক্রান্ত হলে তাকে অন্য দেশও নিজের যুদ্ধ হিসাবে গণ্য করবে। ইরান যদি হামলার মাত্রা বাড়িয়ে যায় এবং সৌদি যদি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ শুরু করে, পাক-মধ্যস্থতার সম্ভাবনাই আর থাকবে না। শরিফ বুধবার সৌদির যুবরাজের সঙ্গে কথা বলে উদ্বেগের কথা জানিয়েওছেন। নয়াদিল্লি গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে শুল্কের চাপ কমিয়ে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই মুহূর্তে তাই পাকিস্তানের ভূমিকার দিকে নজর রাখছে দিল্লি।