Iran-Israel Conflict

রান্নার গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কা! ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের মধ্যে তেল সংস্থাগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ কেন্দ্রের

২০২৪-২৫ সালে ভারতবাসী ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টন এলপিজি ব্যবহার করেছিলেন। তার মধ্যে মাত্র এক কোটি ২৮ লক্ষ টন এলপিজি দেশে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি এলপিজি আমদানি করেছিল ভারত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ২১:১০

— প্রতীকী চিত্র।

ইরান-ইজ়রায়েলের সংঘাতের প্রভাব কি এ বার পড়তে পারে দেশবাসীর হেঁশেলেও! দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে আরও বেশি করে এলপিজি উৎপাদন করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশে যত এলপিজির প্রয়োজন হয়, তার বড় অংশ আমদানি করা হয়। এ বার পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে সেই আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ রকম চললে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা কেন্দ্রীয় সরকারের। সে কারণেই জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

Advertisement

২০২৪-২৫ সালে ভারতবাসী ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টন এলপিজি ব্যবহার করেছিলেন। তার মধ্যে মাত্র এক কোটি ২৮ লক্ষ টন এলপিজি দেশে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি এলপিজি আমদানি করেছিল ভারত। আর তার বেশির ভাগটাই এসেছিল পশ্চিম এশিয়া থেকে। আমদানি করা এলপিজির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আনা হয়েছিল সৌদি আরব থেকে। আর তা এসেছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরানে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা গত শনিবার থেকে হামলা শুরু করার পরে সেই প্রণালী বন্ধ। ফলে এলপিজি আমদানি এখন ভারতের পক্ষে সমস্যার হয়ে উঠতে পারে।

ভারতে তেল শোধনাগার যথেষ্ট সংখ্যক থাকলেও দেশে এলপিজির উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রক দেশের সব সরকারি এবং বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রোপেন এবং বুটেন দিয়ে তৈরি হয় এলপিজি। সেগুলি যাতে এখন দেশে যতটা বেশি সম্ভব উৎপাদন করা যায়, তা নিশ্চিত করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের জরুরি পণ্য (এসেনশিয়াল কমোডিটি) আইন বা ইএসএমএ-তে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের আরও নির্দেশ, এখন প্রোপেন এবং বুটেন দিয়ে পেট্রোরাসায়নিক তৈরি করা যাবে না। গৃহস্থদেরই আপাতত এই গ্যাস বিক্রি করা যাবে। সূত্র বলছে, এই প্রোপেন এবং বুটেন দিয়ে পলিপ্রোপাইলিন, অ্যালকাইলেটসের মতো পেট্রোরাসায়নিক তৈরি করে অনেক বেশি লাভ করে তেল সংস্থাগুলি। এলপিজি তৈরিতে অতটাও লাভ হয় না। এ বার কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার ফলে কিছুটা হলেও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশের তেল শোধনাগারগুলি।

ভারতে এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা ৩৩.০৮ কোটি। প্রতিদিন দেশে ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। রান্নার কাজ, সার তৈরি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, মোটর চালানোর সিএনজি তৈরিতে ওই গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন