প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
মৌলবাদী ধর্মপ্রচারক জ়াকির নায়েককে ভারতে ফেরানো নিয়ে ভারত এবং মানয়েশিয়ার মধ্যে জট ছাড়েনি। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগামিকাল থেকে শুরু হওয়া ২ দিনের মালয়েশিয়া সফরে বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে কূটনৈতিক সূত্রে। পাশাপাশি নয়াদিল্লির বক্তব্য, এই সফর বাণিজ্য ও নিরাপত্তার থেকে শুরু করে ডিজিটাল অর্থায়ন এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধনশীল দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিকে আরও জোরদার করবে।
প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশনে হামলাকারী জঙ্গিরা জ়াকির নায়েকের প্রচারে প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গত প্রায় ন’বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইউএপিএ-সহ ফৌজদারি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ২০১৭ সালে জ়াকিরের বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার নোটিস’ জারির আবেদন জানায় ভারত। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাকেও ধাক্কা দিয়ে ইন্টারপোল জানিয়ে দেয়, জ়াকিরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার প্রমাণ দিতে পারেনি দিল্লি। আইনি প্রক্রিয়াও ঠিক ভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সে সময় মালয়েশিয়ার তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়, সে দেশে বসবাসকারী জ়াকিরের প্রত্যর্পণের জন্য আরও নথি ও প্রমাণ চাই।তবে গত বছরের অক্টোবরে জ়াকির নায়েকের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। ভারতে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার দাতো মুজফ্ফর শাহ মুস্তাফা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মালয়েশিয়া দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পূর্ণ রূপে মেনে চলবে, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইনি ও বিচার পদ্ধতিকে অনুসরণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে কি না সেদিকেই কূটনৈতিক শিবিরের নজর থাকবে।
বিদেশ মন্ত্রকের জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর মালয়েশিয়ায় তৃতীয় সফর এবং ২০২৪ সালের অগস্টে দু’টি দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারি’-র পর্যায়ে উন্নীত করার পর থেকে এটি তাঁর প্রথম সফর। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। মালয়েশিয়ায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সাথেও তাঁর মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। তাঁর সফর কালে দশম ভারত-মালয়েশিয়া সিইও ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে, যা এই সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরবে।