হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ় প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে তিনটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় শুক্রবার আমেরিকার কূটনীতিককে আবার ডেকে পাঠাল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মার্কিন সেনার হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জানিয়েছেন, ‘আপস করা প্রধানমন্ত্রী’ দেশের সন্তানদের রক্ষা করতে ব্যর্থ। এই আবহে ফের ডেকে পাঠানো হল মার্কিন দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জেসন মিক্সকে। গত ৪৮ ঘণ্টায় এই নিয়ে দ্বিতীয় বার।
ওমান উপসাগরে তিনটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজের উপরে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মাউন্ট সেটবেলো জাহাজে সওয়ার ছিলেন ২৮ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়, ২ জন পাকিস্তানি, ১ জন রুশ এবং ১ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। মার্কিন বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন ভারতীয় নাবিক। অন্য জাহাজ এমটি মারিভেক্সে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার পরেই দেশবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সরব হয় বিরোধীরা। গত বুধবার মার্কিন কূটনীতিক জেসনকে ডেকে পাঠায় ভারত। বিদেশ মন্ত্রক বলে, ‘‘বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে স্বাধীন, বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব তা করা দরকার।’’
তার পরেও হরমুজ়ের কাছে একটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকার বাহিনী। মাউন্ট জলবীর নামে ওই পণ্যবাহী জাহাজ থেকে অন্তত ২০ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার আমেরিকা বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, ওই জাহাজ বেআইনি ভাবে ইরান থেকে তেল পরিবহণ করছিল। নিষেধ গ্রাহ্য করেনি। তাই জাহাজের ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তার পরে শুক্রবার আবার মার্কিন কূটনীতিক জেসনকে ডেকে পাঠাল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ় প্রণালী এবং সংলগ্ন অংশে অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। বলা হয়েছে, ইরান থেকে পণ্য নিয়ে কোনও জাহাজকে তারা হরমুজ় পার করতে দেবে না। আবার, অন্য কোনও দিক থেকে ইরানে পণ্য নিয়ে জাহাজ ঢুকতেও দেওয়া হবে না। সেন্ট্রাল কমান্ডের পোস্ট অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত ন’টি ‘অবাধ্য’ জাহাজকে তারা ধ্বংস করেছে। ১৩৫টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। ১২টি ত্রাণবাহী জাহাজকে ওই জলপথ নির্বিঘ্ন পেরোতে দেওয়া হয়েছে।