US-Iran War

বাংলাদেশে ৫০০০ টন ডিজ়েল পাঠাবে ভারত! পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কটকালে সিদ্ধান্ত

মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে ডিজ়েল রফতানি বন্ধ রেখেছিল নয়াদিল্লি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দু’দেশের সম্পর্কে গতি এসেছে। অসমের নুমালিগড় তৈলশোধনাগার থেকে পাঁচ হাজার টন ডিজ়েল পর্বতপুরী সীমান্ত দিয়ে যাবে বাংলাদেশে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৮
India to supply 5000 tonnes of diesel to Bangladesh amid fuel concerns

(বাঁ দিকে) তারেক রহমান এবং নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের একটা বড় অংশে জ্বালানি সঙ্কটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশেই তাদের তৈলভান্ডার নিয়ে চিন্তিত। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের জাহাজ পৌঁছোতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে, আর তাতেই বেড়েছে সমস্যা। সেই আবহে এ বার প্রতিবেশী বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। পাইপলাইন দিয়ে পাঁচ হাজার টন ডিজ়েল বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

অসমের নুমালিগড় তৈলশোধনাগার থেকে পাঁচ হাজার টন পর্বতপুরী সীমান্ত দিয়ে ডিজ়েল যাবে বাংলাদেশে। সে দেশের পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ডিজ়েল সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ভারত ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজ়েল ভারতে পাঠাবে বাংলাদেশকে। এখন যে পাঁচ হাজার টন ডিজ়েল আসছে তা ওই চুক্তি অনুসারেই।’’

রেজানুর আরও বলেন, ‘‘চুক্তি অনুসারে ছ’মাসের মধ্যে কমপক্ষে ৯০ হাজার টন ডিজ়েল আমদানি করবে বাংলাদেশ। আমরা আশা করছি, আগামী দু’মাসের মধ্যে ছ’মাসের বরাদ্দ মোট ডিজ়েল নিয়ে আসব।’’ মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে ডিজ়েল রফতানি বন্ধ রেখেছিল নয়াদিল্লি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দু’দেশের সম্পর্কে গতি এসেছে। তার পরেই আবার বাংলাদেশে ডিজ়েল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। প্রতি দিন গোটা বিশ্বে যত তেল রফতানি হয়, তার ২০ শতাংশই যায় এই হরমুজ় প্রণালী হয়ে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় প্রণালীর দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কার। তার রেশ পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। মূলত জ্বালানি সঙ্কটের কারণে প্রমাদ গুনছে দেশগুলি। কী ভাবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়, বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে সেই সমাধানের পথ খুঁজছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে।

বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইদের ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। কেন এই সিদ্ধান্ত? বাংলাদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়, বিশ্ব জুড়ে বর্তমান যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সঞ্চয় অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে অনেক পরিমাণ বিদ্যুৎ সঞ্চয় হবে শুধু তা-ই নয়, রাস্তায় যানজটও কমবে। আর যানজট কম হলে জ্বালানিও বাঁচবে। এ ছাড়াও, বাইক বা গাড়িতে প্রতি দিন কত পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া যাবে, তা-ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, বাইকের জন্য সর্বাধিক দু’লিটার এবং গাড়ির জন্য ১০ লিটার জ্বালানি দেওয়া হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন