(বাঁ দিকে) জওয়ানদের খাবার, জল পৌঁছে দেওয়ার সেই দৃশ্য। (ডান দিকে) শ্রবণকে সম্মানিত করছে সেনা। ছবি: সংগৃহীত।
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানের মাটিতে প্রত্যাঘাত করেছিল ভারত। ‘সিঁদুর’ অভিযান চালানো হয়। দু’দেশের সেই সামরিক অস্থিরতার সময়ে পঞ্জাবের অমৃতসরে ভারত-পাক সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এক খুদে। জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, গুজরাতের পাশাপাশি পঞ্জাবেও ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছিল পাকিস্তান। পাল্টা জবাব দিচ্ছিল ভারতীয় সেনাও। পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষে ব্যস্ত জনওয়ানদের যাতে খাবার এবং পানীয় জলের কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তাই সেই সব জিনিস পৌঁছে দিতে ছুটে গিয়েছিল বছর দশেকের শ্রবণ সিংহ। সেই খুদেই এখন সেনার চোখে নায়ক। তাকে সম্মানিত করল সেনা।
শ্রবণকে ‘ইয়ংগেস্ট সিভিল ওয়ারিয়র’ সম্মান দেওয়া হয়েছে সেনার তরফে। পঞ্জাবের ফিরোজ়পুরের মামদোত গ্রামে থাকে শ্রবণ। পিটিসি নিউজ়-কে শ্রবণের বাবা সোনা সিংহ বলেন, ‘‘দু’দেশের সামরিক সংঘর্ষের সময় সীমান্তলাগোয়া আমাদের জমি থেকেই জওয়ানেরা পাকিস্তানকে লাগাতার জবাব দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেনাদের খুব কাছ থেকে দেখে আপ্লুত হয়ে পড়ে শ্রবণ। জওয়ানদের যাতে কোনও রকম কষ্ট না হয়, শ্রবণ নিজেই পানীয় জল, খাবার, লস্যি, বরফ পৌঁছে দিয়েছে হাসিমুখে। আমরাও ওকে আটকাইনি। কারণ, জওয়ানদের সেবা করে ওর তৃপ্তিটাই আমাদের কাছে অনেক বড় বিষয়।’’
সোনা আরও বলেন, ‘‘যত দিন এই সামরিক অস্থিরতা চলেছে, যত দিন সেনা আমাদের জমিতে ছিল, তত দিনই শ্রবণ খাবার পৌঁছে দিয়েছে। ওর স্বপ্ন এক দিন ওঁদের মতো দেশের হয়ে লড়াই করবে।’’ অন্য দিকে, শ্রবণ জানিয়েছে, সেনা জওয়ানদের খাবার পৌঁছে দিতে পেরে সে খুব খুশি। তার কথায়, ‘‘আমি বড় হয়ে সেনা হতে চাই। দেশের হয়ে লড়াই করতে চাই।’’