—প্রতীকী চিত্র।
৮ ডিসেম্বর, ২০২৫। ভাইয়ের কাছ থেকে ফোন এসেছিল ক্যাপ্টেন বিনোদ পারমারের কাছে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কয়েকটি কথা শুধু জানিয়েছিলেন। তার পরই ফোন কেটে যায়। ক্যাপ্টেন বিনোদের ভাই ক্যাপ্টেন বিজয় কুমার তেলবাহী জাহাজ ‘ভ্যালিয়ান্ট রোর’-এর কমান্ডিং অফিসার। তাঁদের জাহাজ যখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জলসীমায়, সেই সময় ক্যাপ্টেন বিনোদ ফোন পান। তাঁর ভাই জানান, তাঁদের জাহাজকে তাড়া করে, গুলি চালিয়ে আটক করেছে ইরানের রিভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। তার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন বিনোদ জানিয়েছেন, দুবাইয়ের একটি সংস্থা গ্লোরি ইন্টারন্যাশনাল এফজ়েড এলএলসি-র তেলবাহী জাহাজ ‘ভ্যালিয়ান্ট রোর’। জাহাজটিতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সাহায্যের খোঁজে সেটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খোর ফক্কানের দিকে এগোচ্ছিল। সেই সময়েই ক্যাপ্টেন বিজয় দেখতে পান ইরানের নৌসেনা তাঁদের জাহাজের পিছু নিয়েছে। তার পরই তেলবাহী জাহাজটির পথ আটকায়। জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে ইরান সেনারা। তার পর জাহাজে উঠে আসেন। বন্দি করা হয় জাহাজের ১৮ জন নাবিককে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়।
জাহাজের চিফ অফিসার অনিলকুমার সিংহ। তাঁর স্ত্রী গায়ত্রীর দাবি, ৮ ডিসেম্বর সকালে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। তখন সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দুপুর ৩টের সময় আবার ফোন আসে। তখন অনিল তাঁকে জানান, ইরানের নৌসেনা তাঁদের জাহাজ আটক করেছে। গায়ত্রীর কথায়, ‘‘অনিল কাঁপা কাঁপা গলায় ফোন করে কথাগুলো জানিয়েছিল। গুলি চলার আওয়াজও শুনতে পাচ্ছিলাম। তার পরই ফোন কেটে যায়।’’ ক্যাপ্টেন বিনোদ জানান, পরে তিনি জানতে পারেন তেলপাচারের অভিযোগ এনে জাহাজটিকে আটক করা হয়েছে। তার পর সেটিকে বন্দর-ই-জাস্ক (ওমান উপসাগরে ইরানের বন্দর)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
১৮ জন নাবিককে জাহাজের একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। মোবাইল, ল্যাপটপ, সব কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র জাহাজের ক্যাপ্টেনকে এক মিনিটের জন্য প্রতি দিন ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানে বন্দি ভারতীয়দের পরিবারগুলি গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং (ডিজিএস)-এ যায়। বিদেশ মন্ত্রকের কাছেও যায় পরিবারগুলি। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বন্দিদের মুক্ত করতে সব রকম ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ভারতীয়দের পরিবারগুলিকে ১৭ ডিসেম্বর তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে বন্দর আব্বাস কনসুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এই কনসুলেটের অন্তর্গত বান্দর-ই-জাস্ক। কিন্তু সেই কনসুলেট থেকে আটক ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি।
৬ জানুয়ারি, ২০২৬। ১৮ জনের মধ্যে ১০ নাবিকের বয়ান রেকর্ড করার নামে ইরানের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, তাঁদের গ্রেফতার করে বন্দর আব্বাস জেলে পাঠানো হয়েছে। এই দশ জনের মধ্যে রয়েছেন চিফ অফিসার অনিল সিংহ, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারেরা। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়, ইরানে আটক ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। কারণ, এই মুহূর্তে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ইরান। এই আবহে সেখানে ভারতীয় নাবিকেরা আটক থাকায়, পরিবারগুলির উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।