এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হল অমর্ত্য সেনের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অমর্ত্যের মামাতো ভাই শান্তভানু সেন এবং তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী গীতিকণ্ঠ মজুমদার জানিয়েছেন, এই শুনানিতে তাঁদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি নথি চাওয়া হয়। সেই নথি তাঁরা আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি অমর্ত্যের শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’তে নোটিস পাঠিয়েছিল কমিশন।
গীতিকণ্ঠ জানিয়েছেন, নোবেলজয়ী তথা ভারতরত্ন প্রাপক অমর্ত্যের পাসপোর্টের ফোটোকপি, আধার কার্ড, তাঁর মায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র নেওয়া হয়েছে। তাঁদের তরফে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অমর্ত্যের ভারতরত্নের শংসাপত্রটি প্রমাণ হিসাবে প্রযোজ্য হবে কি না? গীতিকণ্ঠ জানিয়েছেন, কমিশনের আধিকারিকেরা এই নিয়ে কিছু বলতে পারেননি। আধিকারিকদের হাতে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকার প্রতিলিপি, যেখানে অমর্ত্যের নাম ছিল, তা-ও তুলে দেওয়া হয়েছে। নোবেলজয়ীয় শুভাকাঙ্ক্ষী গীতিকণ্ঠের কথায়, ‘‘আধিকারিকেরা কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। স্যরের অথোরাইজেশন সার্টিফিকেট তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছি।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছেন যে, বিশেষ সূত্রে তাঁরা জানতে পেরেছেন, কমিশন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। তবে প্রকাশ্যে এই নিয়ে কিছু বলেনি।
গত ৭ জানুয়ারি অমর্ত্যের বাড়িতে যান সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন। অর্থনীতিবিদের আত্মীয় শান্তভানু জানিয়েছিলেন, আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা নোটিস গ্রহণ করেন। ওই নোটিসে লেখা ছিল, প্রবাসী ভারতীয় অমর্ত্যের গণনাপত্রে কিছু তথ্যগত ভুল রয়েছে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর। যা ‘সাধারণত প্রত্যাশিত নয়।’ তাই এসআইআরের ভোটার তালিকার প্রেক্ষিতে নথিপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় অমর্ত্যের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে। তার মধ্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে রাখতে বলা হয়েছে। সেই মতো শুক্রবার হল শুনানি। অমর্ত্য এই মুহূর্তে বিদেশে রয়েছেন। তিনি আগামী জুলাই মাসে দেশে ফিরবেন বলে জানা গিয়েছে।
বীরভূমের রামপুরহাটের সভায় অভিষেক দাবি করেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। তার কিছু ক্ষণ পরেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, অমর্ত্যের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (তথ্যগত ভুল) রয়েছে। তাঁকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়নি। তার পরের দিনই প্রতীচীতে গিয়ে নোটিস দিয়ে আসেন বিএলও। এই নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূল।