India-Poland Relation

সন্ত্রাসবাদে মদত দেবেন না! পাকিস্তানের নাম না করে পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীকে বার্তা জয়শঙ্করের! উঠল শুল্ক প্রসঙ্গও

জয়শঙ্করের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকোরস্কি। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি। পোল্যান্ডে ঘটা বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে জয়শঙ্করকে অবগত করেন সিকোরস্কি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৭
Jaishankar meeting with Polish Foreign Minister Radoslaw Sikorski in New Delhi

(বাঁ দিকে) ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী র‌্যাডোস্ল সিকোরস্কি (ডান দিকে)। ছবি: এক্স (সাবেক টুইটার)।

সন্ত্রাসবাদে মদত দেবেন না! পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী র‌্যাডোস্ল সিকোরস্কিকে কড়া ভাষায় বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর পরামর্শ, পোল্যান্ডেরও উচিত সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া। তবে সন্ত্রাসবাদের কথা বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি।

Advertisement

সোমবার দিল্লিতে সিকোরস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেই বৈঠকের আগে পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে বার্তা দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, সিকোরস্কি এই অঞ্চলের সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘস্থায়ী হুমকি সম্পর্কে নিশ্চয়ই অবগত। জয়শঙ্করের কথায়, ‘‘আমি মনে করি সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া উচিত পোল্যান্ডের। আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলে সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে ইন্ধন জোগানো উচিত নয়।’’

জয়শঙ্করের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন সিকোরস্কি। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি। পোল্যান্ডে ঘটা বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে জয়শঙ্করকে অবগত করেন সিকোরস্কি। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে পোল্যান্ডে সংযোগ স্থাপনকারী একটি সেতু উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে উঠে এসেছে শুল্ক প্রসঙ্গও। জয়শঙ্কর বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক অতীতে ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে আমি বার বার আমাদের মতামত জানিয়েছি। এ-ও বলেছি যে, ভারতকে এ ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা অন্যায্য

এবং অযৌক্তিক। আজ আবারও একই কথা বলছি।’’ সিকোরস্কি জানান, ভারতের উপর ‘আক্রমণ’ শুধু শুল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেটা আরও বিস্তার লাভ করেছে।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত। আমেরিকা বার বার এই যুদ্ধ অবসানের চেষ্টা করলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ইউক্রেনের উপর হামলা করার ‘অপরাধে’ বিশ্বের অনেক দেশই রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। তবে ‘বন্ধু’ রাশিয়ার সঙ্গে কখনওই দূরত্ব তৈরি করেনি। বরং ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তে খুশি নন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘শাস্তিস্বরূপ’ ভারতের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। শুল্ক আরোপের পর থেকেই আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। তার মধ্যেই পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উঠে এল শুল্ক প্রসঙ্গ।

Advertisement
আরও পড়ুন