Drug Seized in India

এই প্রথম ‘জেহাদি মাদক’ উদ্ধার ভারতে! পাচারের সময় ১৮২ কোটি টাকার বড়ি ধরা পড়ে গেল দিল্লি এবং গুজরাতে

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি লেখেন, “মোদী সরকার মাদকমুক্ত ভারত গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৩:৫০
উদ্ধার হওয়া ‘জেহাদি মাদক’।

উদ্ধার হওয়া ‘জেহাদি মাদক’। ছবি: সংগৃহীত।

মাদক উদ্ধারে বড় সাফল্য পেল ভারত। এই প্রথম এ দেশে উদ্ধার হল ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট, যা ‘জেহাদি মাদক’ নামেই পরিচিত। ‘অপারেশন রেজপিল’ নামের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৮২ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই মাদক পশ্চিম এশিয়ায় পাচার করা হচ্ছিল। পাচারের আগে তা ধরা পড়ে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেও সরায় এলাকায়। এই ঘটনায় সিরিয়ার এক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি লেখেন, “মোদী সরকার মাদকমুক্ত ভারত গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাই যে, ‘অপারেশন রেজপিল’-এ আমাদের বাহিনী এই প্রথম ক্যাপ্টাগন উদ্ধার করেছে, যা ‘জেহাদি মাদক’ নামেই পরিচিত। এর বাজারমূল্য ১৮২ কোটি টাকা।”

পশ্চিম এশিয়ায় চরমপন্থী গোষ্ঠী, সশস্ত্র সংগঠনগুলিতে এই মাদকের ব্যবহার ব্যাপক। সদস্যদের ব্যবহারের পাশাপাশি দুনিয়া জুড়ে এর পাচার করে বিপুল অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে। সিরিয়া, ইরাকের সশস্ত্র সংগঠন ও আইসিসের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির যোদ্ধাদের মধ্যে এর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলি একে ‘জিহাদি মাদক’ বলে উল্লেখ করে।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ মাদক সিরিয়া থেকে আনা হয়েছিল এবং ভারতের মাটি ব্যবহার করে তা সৌদি আরব-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কন্টেনার এবং চায়ের প্যাকেটের ভিতরে এই মাদক লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেও সরায় এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মোট ২২৭.৭ কেজি ওজনের এই মাদক উদ্ধার করা হয়।

ক্যাপ্টাগন হল ফেনেটিলিনের প্রচলিত নাম। এটি একটি কৃত্রিম উদ্দীপক। মূলত ৬০-এর দশকে অতিসক্রিয়তা (অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজ়অর্ডার বা এডিএইচডি), বিষণ্ণতা এবং নারকোলেপ্সির মতো রোগের চিকিৎসার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। আসক্তি ও অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কারণে ১৯৮০ সালে ওষুধটি আন্তর্জাতিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী কালে এটিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাইকোট্রপিক পদার্থ বিষয়ক কনভেনশনের দ্বিতীয় তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন