ইয়াসিন মালিক। —ফাইল চিত্র।
১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের নার্স সরলা ভট্টকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)-এর নেতা ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ল আদালতে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (এসআইএ) সোমবার আদালতে ৭৩৭ পাতার যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে ইয়াসিন-সহ অভিযুক্ত আরও চার জন।
শ্রীনগরের বিশেষ আদালতে পেশ করা চার্জশিটে জানানো হয়েছে, সরলা হত্যা কোনও কোনও বিচ্ছিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপ ছিল না। কাশ্মীরবাসী হিন্দু পণ্ডিতদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে তাদের উপত্যকা থেকে তাড়ানোর উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনামাফিক ওই অপরাধ ঘটানো হয়েছিল। প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি ও দুষ্কৃতীদের হিংসার শিকার হয়ে কাশ্মীর উপত্যকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতেরা। সে সময় বেছে বেছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর নির্যাতন চালায় জঙ্গিরা। ওই সময়েই নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর নার্স সরলা।
১৯৯০ সালের ১২ এপ্রিল রাতে সরলা হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত তাঁর হস্টেলে ফিরছিলেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, সে সময় মূল চক্রান্তকারী ইয়াসিনের সঙ্গীরা একটি গাড়িতে করে সরলাকে অপহরণ করেছিলেন। তাঁকে আটকে রেখে নৃশংস শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ করা হয়েছিল। এর পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন দিন পরে, তাঁর নির্যাতনের চিহ্নযুক্ত ও গুলিবিদ্ধ দেহ শ্রীনগরের একটি সড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এর পরে শ্রীনগের ‘টাডা’ আদালতে এফআরআর রুজু হলেও তদন্তের কাজ এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত সরলার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ৩৫ বছর পরে গত অগস্টে নতুন করে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিল এসআইএ। প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসে আর্থিক মদত এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২৪ মে ইয়াসিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহাড় জেলে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। এ ছাড়া ১৯৮৯ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সঈদের কন্যা রুবাইয়াকে অপহরণ এবং ১৯৯০ সালে শ্রীনগরের উপকণ্ঠে ভারতীয় বায়ুসেনার চার জওয়ানকে খুনের মামলায় তিনি অন্যতম অভিযুক্ত।