প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে রবিবার রাতে পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার এই অভিযোগ জানিয়েছেন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লা ফিতরাত। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘গত রাতের হামলায় নারী ও শিশু-সহ ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক শহিদ হয়েছেন এবং আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।’’ ইসলামাবাদকে হামলার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজ়াউর জেলার পাক-আফগান সীমান্তে রবিবার রাতে পাকিস্তানি স্থল এবং বায়ুসেনার যৌথ অভিযান চলেছে। তাতে ২৯ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি। পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার সোমবার দাবি করেন, ফিতনা আল- খোয়ারিজ় (বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ বা টিটিপি-কে এই নামে ডাকে পাকিস্তান সরকার) জঙ্গিদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তারারের দাবি, এই জঙ্গিগোষ্ঠীর পিছনে ভারতের মদত রয়েছে।
আতাউল্লার দাবি, রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুপরিকল্পিত ভাবে আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। নিশানায় ছিল জঙ্গিদের ঘাঁটি। করাচিতে গত শনিবার রাতে যে হামলা হয়েছে, তার দায় স্বীকার করেছিল টিটিপি-র ছায়াগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার। পাক মন্ত্রীর দাবি, এই দুই গোষ্ঠীর সদস্যেরাই রবিবারের অভিযানে নিহত হয়েছেন। পাক সেনার অভিযানে, টিটিপি কমান্ডার খান ফারোশ এবং জামাত-উল-আহরারের তিন জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ওই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা পরেই হুঁশিয়ারি এসেছে কাবুল থেকে।
প্রসঙ্গত, গত অক্টোবর থেকে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবে চার দফা শান্তি আলোচনা হলেও পাক-আফগান সম্পর্কে উত্তেজনার আঁচ কমেনি। ফেব্রুয়ারি থেকে দফায় দফায় দু’তরফের সংঘর্ষ হয়েছে। টিটিপি-সহ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি আফগান তালিবানের একাংশের মদতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে ইসলামাবাদের অভিযোগ। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশের কয়েকটি জায়গায় বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। সেই হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় ২৬০০ কিলোমিটারের ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনা এবং আফগান বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।