Carpet Industries

যুদ্ধে বেহাল কাশ্মীরের কার্পেট শিল্পও

সিইপিসি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ও সংঘাতের কথা মাথায় রেখেই, প্রদর্শনী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোপেনহাগেনের প্রদর্শনীটি ২২-২৬ এপ্রিল, কিংঘাইতে ১০-১৪ জুন এবং শারজাতে ১২-১৪ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কাশ্মীরের কার্পেট শিল্পে। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ডেনমার্ক, চিন, আরব আমিরশাহিতে তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘দ্য কার্পেট এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল’ (সিইপিসি) কাশ্মীরের কার্পেট রফতানিকারকদের বিশ্বব্যাপী চলমান বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে অবগত করেছে। ডেনমার্কে ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল এগ্‌জ়িবিশনস কোপেনহাগেন লাইফস্টাইল এক্সপো’ এবং চিনের ‘কিংঘাই ইন্টারন্যাশনাল কার্পেট এগ্‌জ়িবিশনস’ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে প্রদর্শনী সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে শারজাতে।

সিইপিসি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ও সংঘাতের কথা মাথায় রেখেই, প্রদর্শনী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোপেনহাগেনের প্রদর্শনীটি ২২-২৬ এপ্রিল, কিংঘাইতে ১০-১৪ জুন এবং শারজাতে ১২-১৪ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। কাশ্মীরের ‘আলি শাহ ক্রাফ্টস’ সংস্থার মনজ়ুর সিদিক শাহ জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কার্পেট রফতানিও কম হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এর প্রভাব উপত্যকার পর্যটন-নির্ভর শিল্পেও পড়েছে। একই ভাবে উদ্বিগ্ন কার্পেট বিক্রেতা শেখ আসিক। তাঁর মতে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তিনি এ-ও জানান, কার্পেট উৎপাদন ও রফতানিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের আধিপত্য সর্বাধিক। সেখানে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভার উপত্যকা-সহ গোটা বিশ্বেই পড়ে। পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, কার্পেট রফতানিকারকদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ কমায় ব্যবসা বাঁচাতে তাঁরা দেশীয় ক্রেতাদের দিকেই ঝুঁকছেন।

কাশ্মীরের কার্পেট শিল্পে জড়িত কর্মচারীর সংখ্যা ৮০ হাজারের কাছাকাছি। বিগত কয়েক বছরে তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ২০২২-২০২৩ সালে যেখানে রফতানির মূল্য ছিল ৩৫৭ কোটি টাকা, ২০২৪-২০২৫ সালে তা এসে ঠেকেছে ২৬০.৭০ কোটিতে। বর্তমান পরিস্থিতির ফলে কার্পেট ব্যবসার পুনরুদ্ধার কী ভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন