মঞ্জু প্রধান। —ফাইল চিত্র।
তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই ফিরিয়ে দিল একটি জীবন। এক মহিলার অদম্য জেদে জীবন ফিরে পেলেন ট্রেনে সফররত তাঁরই এক সহযাত্রী।
সূত্রের খবর, শিয়ালদহ স্টেশন থেকে জয়নগরগামী ট্রেনে বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। ৩টে ১৭ মিনিটের লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল বারুইপুর স্টেশন ছাড়ার কিছু ক্ষণ পরেই ট্রেনের ভিতরে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর পঞ্চাশের এক মহিলা যাত্রী। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। সহযাত্রীরা লক্ষ করেন, তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ এবং নাড়ির স্পন্দনও মিলছে না। এর পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা কামরায়।
ঠিক সেই সময়েই এগিয়ে যান মঞ্জু প্রধান নামে এক মহিলা। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির একটি পরিবারের গৃহবধূ। সহযাত্রীদের বাধা উপেক্ষা করেই তিনি তৎক্ষণাৎ মহিলাকে শুইয়ে দিয়ে সিপিআর (কার্ডিয়ো পালমোনারি রিসাসিটেশন) দিতে শুরু করেন। নিয়ম মেনে সংজ্ঞাহীন মহিলার বুকে চাপ ও মুখে মুখ লাগিয়ে অক্সিজেন দিতে থাকেন তিনি।
মিনিট কয়েকের মধ্যেই দৃশ্য বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় অসুস্থ মহিলার শ্বাসপ্রশ্বাস, নাড়ির স্পন্দনও অনুভূত হয়। জ্ঞান ফিরতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন উপস্থিত যাত্রীরা। মঞ্জু বলেন, ‘‘ওঁকে বাঁচিয়ে তোলার পরে আমার শরীরটা ছেড়ে দেয়। বিশ্বাস হচ্ছিল না যে, এক জনকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারলাম। এটা ভেবে ভাল লাগছে যে, আমার শিক্ষা একটি মানুষকে বাঁচাতে পেরেছে।’’ সম্প্রতি তাঁর ভাশুরের ছেলের জলে ডুবে মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরে উদ্ভ্রান্ত মঞ্জু একটি সমাজসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ মা উড়ালপুলে মোটরবাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়া এক তরুণীকে সিপিআর দিয়ে সুস্থ করে তুলেছিলেন এক চিকিৎসক। চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্রোগজনিত আকস্মিক অচেতনতার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিটই সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই মুহূর্তে যথাযথ ভাবে সিপিআর প্রয়োগ করা গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।