লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বক্তব্য রাহুল গান্ধীর। ছবি: পিটিআই।
লোকসভায় ‘ম্যাজিশিয়ান’ শব্দ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাহুল বলেন, ‘‘এটি একটি ধাঁধা। আমি আপনাদের এ ভাবে এর উত্তর দিতে পারব না। যদি এর সমাধান খুঁজে পাই, তা হলে তখনই বলব।’’
মহিলার সংরক্ষণ বিল একটা মিথ্যা। ২০২৩ সালে এই বিল পাশ হয়ে গিয়েছিল। মহিলা বিল সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রকে খোঁচা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের।
রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি, সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে। রাহুল আরও বলেন, ‘‘আপনাদের ক্ষমতা কমে আসছে। সেই জন্য দেশের ভোট মানচিত্র বদলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। যেমন অসমে করেছেন। কিন্তু আমরা আপনাদের এই চেষ্টা সফল হতে দেব না। সব বিরোধী দল আপনাদের হারাবেই। আমরা ওবিসিদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেব না। আপনারা ওবিসি এবং দলিতদের হিন্দু বলেন। কিন্তু দেশে ওঁদের কোনও অধিকার দেন না। সত্যি কথা আপনাদের খুব খারাপ লাগে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘যদি এই বিল সর্বসম্মত ভাবে পাশে হয়ে যায়, তা হবে দেশের নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে আরও একটা পদক্ষেপ যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।’’
কাঁটাতারে জড়িয়ে মহিলাদের উপহার পেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদীকে খোঁচা কংগ্রেস সাংসদ শশী তরুরের। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে দলের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, আসন পুনর্বিন্যাস আসলে রাজনৈতিক নোটবন্দির মতো।
লোকসভায় সন্ধ্যা ৬টায় বক্তৃতা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তিনি জবাব দেবেন।
অপারেশন সিঁদুর, বালাকোট প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীকে খোঁচা দিলেন রাহুল। তিনি ‘ম্যাজিশিয়ান’ শব্দ প্রয়োগ করেন। আর তাঁর এই শব্দের তীব্র বিরোধিতা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। স্পিকার ওম বিড়লা এটিকে অসংসদীয় বলে অভিহিত করে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই বিল পাশ হবে না, এটা ভাল ভাবেই জানে বিজেপি সরকার। এই ধরনের বিল তাড়াহুড়ো করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রাহুলের।
লোকসভায় রাহুল বলেন, ‘‘আমাদের দেশের চালিকাশক্তি নারীরা।’’ এর পরই তিনি আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘সরকার দেশবিরোধী কাজ করছে। আমরা তা কিছুতেই হতে দেব না। সমগ্র বিরোধী দল সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে।’’
বিল নিয়ে ভোটাভুটির আগে প্রাধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে শুক্রবার এক দীর্ঘ পোস্ট করেন। বিলের পক্ষে ভোটদানের উপর জোর দেন তিনি। লেখেন, ‘চার দশক ধরে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রচুর রাজনীতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবশ্যই তাদের অধিকার দিতে হবে।’’ সেই বিষয় উল্লেখ করে মোদী লেখেন, ‘‘এই বিল নিয়ে যা তথ্যের অভাব ছিল, তা প্রত্যেক সদস্যকে সরবরাহ করা হয়েছে। যে কোনও উদ্বেগের সমাধান করা হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, তিনটি বিল নিয়ে কথা হলে মোদী তাঁর পোস্টে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিষয়ই উল্লেখ করেছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘এটি মহিলাদের সংরক্ষণ বিল নয়, দেশের ভোট মানচিত্র বদলের নকশা।’’ তাঁর অভিযোগ, দেশের ভোট মানচিত্র বদলের চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। এই বিল দেশের তপশিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া (ওবিসি) শ্রেণির অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিল।