রাহুল গান্ধী। ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট শেষ হতে বাকি আর সাত দিন। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, কংগ্রেসের প্রদেশ এবং মধ্যবর্তী স্তর থেকে আক্রমণ ও সমালোচনা এলেও তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলায় প্রচারে গিয়ে বাকি কয়েক দিন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করবেন না। বিজেপি-বিরোধিতার বৃহৎ রাজনীতির প্রশ্নে এই নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের ঘরোয়া সমঝোতা হয়ে গিয়েছে বলেই দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের।
যদিও পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের আগের রাতে রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক ভিডিয়ো-বার্তায় বিজেপিকে ভোট চুরির অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেও নিশানার বাইরে রাখেননি মমতাকেও। ‘পশ্চিমবঙ্গের ভাইবোনেদের’ উদ্দেশে ওই ভিডিয়োয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেছেন, ‘‘বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বাংলা ভাষার বিরোধী। মমতাজি যদি সাফসুতরো সরকার চালাতেন, যদি বাংলায় মেরুকরণ না করতেন, বিজেপির জন্য রাস্তা খুলত না।’’
তবে আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল আজ নিজের এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ‘সম্পূর্ণ সমর্থন’ এবং ‘পাশে থাকার বার্তা’ তিনি মমতাকে দিয়েছেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এনসি-র ওমর আবদুল্লা, এসপি-র অখিলেশ যাদব, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, আরজেডি-র তেজস্বী যাদবের মতো নেতারা সরাসরি মমতার সঙ্গে অথবা তৃণমূলের অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন। জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেন বাংলার কিছু নির্বাচনী ক্ষেত্রে প্রচারও করেছেন। আজই নির্দল সাংসদ কপিল সিব্বল বলেছেন, মোদী সরকার নারীশক্তি নিয়ে বড় বড় কথা বললেও তারা এক জন নারীর বিরুদ্ধেই দেশের সমস্ত সরকারি সম্পদকে কাজে লাগিয়েছে। বিষয়টি গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদের।
গত সপ্তাহে বাংলার সভায় রাহুলের আক্রমণে ক্ষুব্ধ হয় মমতার দল। ঘটনাচক্রে, তখন দিল্লিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলাদের আসন সংরক্ষণের সংবিধান সংশোধনী বিল আটকানো নিয়ে আপৎকালীন ভিত্তিতে ময়দানে নেমেছিল কংগ্রেস। লোকসভায় ভোটাভুটির দু’দিন আগে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে আড়ষ্টতা কাটাতে ডেরেক ও’ব্রায়েনের বাড়ি যান জয়রাম রমেশ। প্রাথমিক ভাবে তৃণমূল বলেছিল, মাত্র পাঁচ জন দলীয় সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ২১ জনে গিয়ে দাঁড়ায়। দলের দাবি, বিনিময়ে এই কথাও আদায় করে নেওয়া হয় যে, রাহুল গিয়ে আবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগবেন না। যদিও রাহুল তাঁর আজকের ভিডিয়োয় মমতার শাসনকালেরও সমালোচনা করেছেন। প্রসঙ্গত, পুলিশের অনুমতি না মেলায় কলকাতায় রাহুলের আগামিকালের সভা বাতিল হয়েছে। আপাতত স্থির হয়েছে, ২৫ তারিখ শহিদ মিনারের তলায় রাহুলের জনসভা হতে পারে। আজ কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনতে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে কালকের সভার অনুমতি না মেলা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বলেছেন, তৃণমূল সরকার কর্মসংস্থান, দুর্নীতিদমন এবং মহিলাদের সুরক্ষার প্রশ্নে চূড়ান্ত ব্যর্থ।
এ দিকে দিল্লিতে কপিল সিব্বল বলেছেন, “মনে হচ্ছে যেন পশ্চিমবঙ্গে অসাংবিধানিক উপায়ে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। যেন মমতাকে হারাতে বিজেপি নয়, নির্বাচন কমিশন ভোটে লড়ছে। ২৭ লক্ষ ভোটার ভোট দিতে পারবেন না। ২৪০০ প্ল্যাটুন (আদতে ২৪০০ কোম্পানি) কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। মণিপুরে অশান্তি চলছে। সেখানে, জম্মু-কাশ্মীরে অত বাহিনী নেই, যা পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে।” বিরোধী দলনেতা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ বিজেপি নেতাদের ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।