উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের বাড়িতে নথি হাতে শরিফ। ছবি: সংগৃহীত।
শিয়রে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)। আর সেই তাড়নায় নথিপত্র জোগাড় নিজের দেশের বাড়িতে বৃদ্ধ হাজির হতেই পরিবারের সদস্যেরা ‘ভূত’ দেখার মতো চমকে উঠেছিলেন। কারণ, ২৮ বছর ধরে কোনও খোঁজখবর না পাওয়ায় তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন, বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এসআইআর চলছে ন’টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। তার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশও। সেখানে ২৮ বছর পর এক ‘মৃত’ ব্যক্তি জীবিত হয়ে ফিরে এলেন।
ঘটনাটি মুজফ্ফরনগরের। এসআইআর-ই এক পরিবারের পুনর্মিলনের কারণ হয়ে উঠল। ২৮ বছর পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন হল খাটাউলি শহরের শরিফের। তাঁকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলেন পরিবারের সদস্য থেকে পড়শিরা। সঙ্গে নানা প্রশ্নও। কোথায় ছিলেন শরিফ এত দিন? সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ১৯৯৭ সালে শরিফের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিলেন শরিফ। এখানেই আবার বিয়ে করে নতুন সংসার পাতেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথম প্রথম বেশ কিছু দিন ল্যান্ডলাইন থেকে ফোন করে গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু ক্রমে তা কমে আসে। একটা সময় শরিফের আরও কোনও সাড়াশব্দ বা উত্তরও পায়নি পরিবার। শুধু তারা জানত শরিফ পশ্চিমবঙ্গের কোথাও রয়েছেন। কিন্তু সঠিক ঠিকানাও তারা জানত না।
বছরের পর বছর কাটলেও শরিফের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর আগের পক্ষের সন্তানেরা। ফলে তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন শরিফের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এখন এসআইআর চলছে। উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গেও। ফলে সেই তাড়নায় নথিপত্র জোগাড় করতে শরিফকে ছুটে যেতে হয়েছে উত্তরপ্রদেশে তাঁর নিজের গ্রামে। নথিপত্র আনতে গত ২৯ ডিসেম্বর খাটাউলিতে হাজির হন শরিফ। তাঁকে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান পরিবারের সদস্যেরা। শরিফের ভাইপো মহম্মদ আকলিম জানিয়েছেন, ১৫-২০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বৃদ্ধকে খুঁজেছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁর কোনও হদিস পাননি। তবে এসআইআর-এর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন শরিফ।