Calcutta High Court

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ভুক্তভোগীকে আর আদালতে তলব নয়, নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে জানাল কলকাতা হাই কোর্ট

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, নির্যাতিতা এক বার সাক্ষ্য দেওয়ার পরেও শুধুমাত্র অভিযুক্তের আইনজীবীর ভুলের জন্য আবার আদালতে টেনে আনা যায় না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৮
Calcutta high court dismissed the lower court order summoning the victim to testify for the second time

—প্রতীকী চিত্র।

আইন ভুক্তভোগী বা নির্যাতিতার সম্মান ও মানসিক সুরক্ষা দেয়। আবার অভিযুক্তের অধিকারও রক্ষা করে। কেউ নিজের ইচ্ছামতো আইনের সংজ্ঞা তৈরি করতে পারেন না। পকসো মামলায় এক নাবালিকার পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ সংক্রান্ত মামলা নিয়ে মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের রায়, নিম্ন আদালত ভুক্তভোগীর পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছিল তা খারিজ করা হচ্ছে। তাকে আর ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, নির্যাতিতা এক বার সাক্ষ্য দেওয়ার পরেও শুধুমাত্র অভিযুক্তের আইনজীবীর ভুলের জন্য আবার আদালতে টেনে আনা যায় না।

Advertisement

হুগলির এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। তার মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, যৌন ব্যবসার জন্য ওই মেয়েটিকে বিক্রি করা হয়। অভিযুক্তেরা তার উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনও চালায়। ওই ঘটনায় অপহরণ, পাচার, ধর্ষণ, ষড়যন্ত্র এবং পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়। বিচারপর্বে আদালত দু’দিন নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এমনকি অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীও তাকে জেরা করেন। হঠাৎ প্রায় ৫ মাস পরে অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে আবেদন জানান, এর আগে তাঁর পক্ষের জুনিয়র আইনজীবী নির্যাতিতাকে প্রশ্ন করেছেন। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছেন। তাই আবার তাকে ডেকে প্রশ্ন করা দরকার। ফৌজদারি আইনের ৩১১ ধারাকে হাতিয়ার করেন অভিযুক্তের আইনজীবী। ওই ধারায় বলা হয়েছে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষের পরেও কোনও সাক্ষীকে আবার ডাকা যেতে পারে। আবার প্রশ্নও করা যেতে পারে। তবে শর্ত, নিতান্ত প্রয়োজন হলে তবেই এটা করা যায়। ওই আবেদন মেনে নেয় নিম্ন আদালত। নির্যাতিতাকে তলব করা হয়।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, নিম্ন আদালত কোনও যুক্তি দেখায়নি। তা ছাড়া ওই নির্যাতিতা ইতিমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছে। পাঁচ মাস পরে আবার আদালতে ডাকা মানে মানসিক যন্ত্রণা এবং অপমান করা। পকসো আইনে বলা হয়েছে, কোনও ভুক্তভোগীকে বারবার আদালতে ডাকা যায় না। এটা আসলে অভিযুক্তেরা নিজেদের ভুল ঢাকতে চাইছেন। এর পরেই আদালত নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয়।

Advertisement
আরও পড়ুন