Abhishek Banerjee

শুক্রবার থেকে অভিষেক জেলা সফরে, বারুইপুরের সভার মাঠে কনসার্টের সাজ, ব্রিগেডের ধাঁচে র‌্যাম্পে হেঁটে হবে জনসংযোগও

২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ‘নবজোয়ার যাত্রা’ করেছিলেন অভিষেক। যা কোচবিহারে শুরু করে শেষ হয়েছিল গঙ্গাসাগরে। এ বার সেই ধাঁচে যাত্রা হচ্ছে না। তবে কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে দক্ষিণ থেকে। খানিকটা ‘আঁকাবাঁকা’ পথে হবে তাঁর কর্মসূচি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০২
Abhishek Banerjee starts state wide election campaign from Friday

শুক্রবার থেকে শুরু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কনসার্টের মঞ্চে জনসভা! বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে শুক্রবার থেকে জেলা সফর শুরু করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিন তাঁর কর্মসূচি বারুইপুরে। স্থানীয় ফুলতলা সাগরসঙ্ঘের মাঠে জনসভায় যাবেন অভিষেক। তবে সে জনসভার মঞ্চ যে কোনও কনসার্টের মঞ্চকেও হার মানিয়ে দিতে পারে।

Advertisement

মূল মঞ্চের প্রেক্ষাপটে থাকছে প্রকাণ্ড এলইডি স্ক্রিন। যার উচ্চতা বিরাট নয়। যেমনটা দেখা যায় কনসার্টের ক্ষেত্রে। আর মঞ্চের সামনেই ‘প্লাস’ চিহ্নের আকারে তৈরি হচ্ছে র‌্যাম্প। সেখানে হেঁটেই সভায় আসা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে জনসংযোগ সারবেন অভিষেক। লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেড সমাবেশে র‌্যাম্প সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন অভিষেকই। সেই র‌্যাম্পে হাঁটু মুড়ে বসে মাথা নিচু করে প্রণাম করে শুরু করেছিলেন সভা। একই দিনে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের র‌্যাম্পে হাঁটিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে যদিও প্রার্থী পরিচিতির বিষয় নেই। তবে ভোটের প্রচারের নতুন আঙ্গিককে এ বার সারা রাজ্যে সার্বিক রূপ দিতে চলেছে তৃণমূল।

Abhishek Banerjee starts state wide election campaign from Friday

বারুইপুরে অভিষেকের সভাস্থলের প্রস্তুতি চলছে বৃহস্পতিবার। ছবি: সংগৃহীত।

সভাস্থলের সাজসজ্জা দেখলে সহজেই অনুমান করা যায় তা ব্যয়সাপেক্ষ। প্রচারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা প্রায়ই একটি কথা বলেন। তাঁদের বক্তব্য, যেমন গুড়, তেমন মিষ্টি। অর্থাৎ, যেমন অর্থ ঢালা যাবে, তেমনই প্রচারের সাজসজ্জা হবে। যদিও অভিষেক-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তিনি মনে করেন নতুন নতুন ধারাই প্রচারের মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারার বদলকে গ্রহণ করে নতুন ধারার দিকে অগ্রসর হওয়াই উচিত রাজনৈতিক দলগুলির। সেখানে অনেক সময়ে কম খরচেও নজরকাড়া প্রচার করা যায়।

গোটা জানুয়ারি মাস ধরে অভিষেক রাজ্যের সব জেলায় কর্মসূচি করবেন। শনিবার তিনি যাবেন জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রায় সর্বত্রই এই ধরনের মঞ্চ প্রস্তুত রাখা হবে দলের তরফে। বারুইপুরের সভায় সংলগ্ন বিধানসভা থেকে জমায়েত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের কর্মীদের। বেলা ১২টায় সভার নির্ধারিত সময়। দুপুরে অভিষেক সেখানে পৌঁছোবেন। এসআইআরের দ্বিতীয় পর্বের মধ্যেই এই কর্মসূচি শুরু করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ইতিমধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিধানসভা ভোটের মূল স্লোগান এবং লোগো প্রকাশ করেছে তৃণমূল। গত শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তা প্রকাশ করেন অভিষেকই। ২০২১ সালের লোকসভা ভোটে শাসকদলের স্লোগান ছিল ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের স্লোগান ছিল ‘জনগণের গর্জন, বাংলা-বিরোধীদের বিসর্জন’। এ বারের স্লোগান, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। অর্থাৎ ‘বাংলা-বাঙালি’র অনুষঙ্গ রেখেই স্লোগান তৈরি করেছে শাসকদল। বারুইপুরের সভাস্থলের র‌্যাম্পেও ‘আবার জিতবে বাংলা’ লেখা রয়েছে।

২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ‘নবজোয়ার যাত্রা’ করেছিলেন অভিষেক। যা কোচবিহারে শুরু করে শেষ হয়েছিল গঙ্গাসাগরে। এ বার সেই ধাঁচে যাত্রা হচ্ছে না। তবে কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে দক্ষিণ থেকে। খানিকটা ‘আঁকাবাঁকা’ পথে হবে তাঁর কর্মসূচি। শনিবার উত্তরবঙ্গে কর্মসূচির পর ৬ জানুয়ারি তিনি যাবেন বীরভূমে। ৭ জানুয়ারি যাবেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে খবর, যে জেলাতেই তিনি যান, রোজ বিকালের পরে কলকাতায় ফিরে আসবেন।

বারুইপুরের জনসভায় দু’লক্ষ জমায়েত করার লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল। তবে শাসকদল সূত্রের খবর, এ বার অভিষেকের সভায় শুধু তাঁর বক্তৃতাই মুখ্য বিষয় হবে না। সেই সঙ্গে জুড়ে থাকবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনও। কারণ, সমাজমাধ্যমের প্রচারও জুড়ে থাকছে এর সঙ্গে। ফলে সেই উপকরণও সর্বতোভাবে প্রস্তুত রাখছে তৃণমূল।

Advertisement
আরও পড়ুন