LPG Price Hike Protest

নারী দিবসে গ্যাসের দাম নিয়ে সরব সবাই, রাজ্যকে তোপ বিজেপির

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতা, খুন্তি হাতে কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩০
ধর্মতলার ধর্না-মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ধর্মতলার ধর্না-মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সুমন বল্লভ।

রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম আচমকা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে রবিবার, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন বিজেপি ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই প্রতিবাদে মুখর হল। সেই সঙ্গে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় মহিলাদের নাম বাদ যাওয়া নিয়েও ফের সরব হয়েছে নানা দল। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের ‘উজ্জ্বলা’ প্রকল্পে ‘বাধা’ এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে পাল্টা নিশানা করেছে বিজেপি।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতা, খুন্তি হাতে কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। সেই মতো এ দিন প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়-সহ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীরা। নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তাঁদের সরকার মহিলাদের জন্য কী কী করেছে, তার বিস্তারিত খতিয়ান সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রেই তাঁর তোপ, “কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ শুধু মানুষকে হয়রান করা। গ্যাসের দাম যে ভাবে বৃদ্ধি করা হল, তার প্রভাব পড়বে মানুষের হেঁশেলে।” আর এসআইআর-প্রক্রিয়ার কথা বলে চন্দ্রিমার অভিযোগ, “ভয় পেয়েছে, তাই মেয়েদের ভোট কাটতে হবে! বেছে বেছে কেন মেয়েদের, সংখ্যালঘু মেয়েদের কেন নাম কাটা হচ্ছে?”

কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ‘বাধা’র অভিযোগে শাণ দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেছেন, “উজ্জ্বলা-৩.০ প্রকল্পে ভারত সরকার আরও ৭৫ লক্ষ মা-বোনকে (গ্যাস-সংযোগ) দিল। গ্রাহক বিতরণকেন্দ্রে পড়ে আছে আরও ১৫ লক্ষ আবেদন। প্রকল্পের আরও সুফল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিতে দেননি।” রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “আর জি কর, সন্দেশখালি-কাণ্ডের কথা যখন সামনে আসে, তখন প্রশ্ন জাগে আমাদের মেয়েরা নিরাপদ? প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। অপরাধের দ্রুত বিচার করতে কঠোর আইন ও বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করেছে।”

নারী নিরাপত্তা নিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পাল্টা নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মথুরাপুরে যে মাঠে দলের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচি উপলক্ষে সভা করে গিয়েছিলেন শাহ, সেই মাঠেই এ দিন সভা করে অভিষেক বলেছেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে থাকা এনসিআরবি ২০২৫-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে প্রথমে উত্তরপ্রদেশ। তার পরে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান। প্রতিটি রাজ্যই বিজেপি-শাসিত।”

গ্যাসের দাম নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরেও সরব থেকেছে নানা দল। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেছেন, “কোথাও যুদ্ধ হলেই ‘সব ঠিক আছে’ বলে বড়াই করা মোদী সরকার পর্যাপ্ত তেল-গ্যাস ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।” এর পাশাপাশি এসআইআর-প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, “বহু মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত, বিষয়টি বিশেষ ভাবে দেখা।”

দাম-বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে সিপিএমের পলিটব্যুরোও। এই দাম বাড়ানোর ফলে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের উপরে চাপ বাড়বে বলে পলিটব্যুরোর বক্তব্য, ‘সিলিন্ডারকে কেন্দ্র করে রাজস্ব ছাড়েনি সরকার। এটি আসলে সরকারের জনবিরোধী চরিত্রকেই সামনে আনে।’ এই বিষয়ে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদেও নেমেছে সিপিএম।

ভোটাধিকার রক্ষা, লিঙ্গ-সাম্যের জন্য লড়াইয়ের ডাক দিয়ে শিয়ালদহ থেকে কলকাতা পুরসভা পর্যন্ত ‘নারী স্বাধিকার সমন্বয়ে’র ডাকা মিছিলে যোগ দিয়েছিল বিভিন্ন বামপন্থী গণ-সংগঠন। ওয়েলিংটনে সেই মিছিল পুলিশ আটকালে চাপানউতোর তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিন্‌হা বলেছেন, “গ্যাসের দাম বাড়ানো, মহিলাদের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে এই মিছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসেছেন বলে পুলিশ মিছিল আটকাল। এক জন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার রাস্তায় যদি মহিলারা নিজেদের দাবি নিয়ে যেতেন, কী ক্ষতি হত?” এরই মধ্যে, ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’ সংগঠনের তরফে হাজরার সুজাতা সদনে গৃহ পরিচারিকা, শ্মশানকর্মী, আশাকর্মী, আইনজীবী, রেফারি-সহ বিভিন্ন পেশার মহিলারা তাঁদের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন