Mumbai Professor Stabbed to Death

সামান্য বিষয়ে বচসা, মুম্বইয়ে ট্রেনের সহযাত্রী কোপালেন অধ্যাপককে! স্টেশনে নামার পর মৃত্যু, ধরা পড়ল সিসিটিভিতে

অধ্যাপকের এক সহকর্মী বলন, ‘‘অলোক স্যর মৃদুভাযী ছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখিনি। বরং কোনও গন্ডগোল হলে তিনি এগিয়ে গিয়ে থামানোর চেষ্টা করতেন। ওঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০২
মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে খুন অধ্যাপক অলোক সিংহ (বাঁ দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে খুন অধ্যাপক অলোক সিংহ (বাঁ দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি আর তার জেরেই খুন হতে হল এক অধ্যাপককে। চলন্ত ট্রেনে ওই অধ্যাপককে ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে এক সহযাত্রীর বিরুদ্ধে। ট্রেন স্টেশনে ঢুকতেই প্ল্যাটফর্মে নামেন। আর তার পরই মৃত্যু হয় অধ্যাপকের। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান সহযাত্রী। স্টেশনের ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে ছুটে পালাতে দেখা যায় হামলাকারীকে। সেই ফুটেজের সূত্র ধরেই অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে রেলপুলিশ। ধৃতের নাম ওঙ্কার শিন্দে।

Advertisement

শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে মালাড স্টেশনে। নিহত অধ্যাপকের নাম অলোক সিংহ। তিনি ভিলে পার্লেতে একটি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, অধ্যাপক এবং অভিযুক্ত যুবক একসঙ্গেই ট্রেনে সফর করছিলেন। মালাডের দিকে যাচ্ছিল ট্রেনটি। ভিড় কামরায় ওঠা নিয়ে অধ্যাপকের সঙ্গে ওঙ্কারের বাদানুবাদ শুরু হয়। সেই বাদানুবাদ ক্রমে বাড়তে থাকে। অভিযোগ, তার মধ্যে আচমকাই ব্যাগ থেকে একটা ছুরি বার করে অধ্যাপকের পেটে বেশ কয়েক বার ঢুকিয়ে দেন ওঙ্কার। ট্রেন মালাড স্টেশনে ঢুকতেই প্ল্যাটফর্মে লাফ দিয়ে পড়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যান হামলাকারী যুবক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড়ের মধ্যে এক যুবক ওই অধ্যাপককে এত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে হামলা করে পালিয়ে যান যে, তাঁকে ধরার কেউ সুযোগ পাননি। ট্রেন মালাড স্টেশনে থামতে অধ্যাপক পেট চেপে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামেন। রক্ত আটকানোর চেষ্টা করছিলেন। তার পরই পড়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনার পর রেলপুলিশ হামলাকারীর খোঁজে নামে। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সময় হামলাকারী যুবককে ওভারব্রিজ ধরে ছুটে পালাতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তের খোঁজ জারি রাখে পুলিশ। অবশেষে ভাসাই থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ওঙ্কারকে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে ভিলে পার্লে থেকে বোরিভালিগামী ট্রেন ধরেন অধ্যাপক। সন্ধ্যা ৬টার সময় মালাড স্টেশনে নামার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই হামলার শিকার হন অধ্যাপক। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, গেটে দাঁড়ানো নিয়ে গন্ডগোলের সূত্রপাত। তবে ওই ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সঠিক ঘটনাটি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

২০২৪ সালে ভিলে পার্লের ওই কলেজে যোগ দেন। সেখানে গণিত এবং পরিসংখ্যানবিদ্যা পড়াতেন। অধ্যাপকের এক সহকর্মী বলন, ‘‘অলোক স্যর মৃদুভাযী ছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখিনি। বরং কোনও গন্ডগোল হলে তিনি এগিয়ে গিয়ে থামানোর চেষ্টা করতেন। ওঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’’

Advertisement
আরও পড়ুন