ভারী তুষারপাত মানালিতে। ছবি: সংগৃহীত।
হিমাচলে যেন হিম দুর্যোগ নেমে এসেছে। রাজ্যের শৈলশহরগুলিতে হালকা থেকে ভারী তুষারপাত হচ্ছে। যার জেরে রাস্তাগুলি বরফে ঢাকা পড়েছে। যানজটের কারণে পুরো থমকে গিয়েছে মানালি। কোঠি থেকে মানালি যাওয়ার ৮ কিলোমিটার রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। তার সঙ্গে চলছে ভারী তুষারপাত। ফলে রাতভর গাড়িতেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে পর্যটকদের।
শীতের মরসুমের শুরুতে তুষারপাত না হলেও নতুন বছরে জানুয়ারির শেষ দিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতেই হিমাচলে তুষারপাত শুরু হয়েছে। আর তুষারপাত মানেই পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। তুষারপাতের টানেই পর্যটকেরা বার বার হিমাচলের শৈলশহরগুলিতে এই সময়ে ছুটে যান। তবে শীতের শুরুতে তুষারপাতের দেখা না মেলায় পর্যটকদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তুষারপাত হতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ভিড় বাড়াতে শুরু করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি থেকে সপ্তাহান্তে বিপুল সংখ্যায় পর্যটকদের গাড়ি ঢুকেছে মানালি, শিমলা, কুফরির মতো পর্যটনস্থলগুলিতে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মানালিতে ১০০ শতাংশ হোটেল বুকিং হয়ে গিয়েছে। অনেক পর্যটক গিয়ে হোটেল না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন। বাধ্য হয়ে, তাঁদের অন্য গন্তব্যে রওনা হতে হচ্ছে। কেউ কুলু যাচ্ছেন, কেউ কুফরি। প্রশাসন সূত্রে খবর, তুষারপাতের জেরে রাজ্য জুড়ে ৬৮৫টি রাস্তা বন্ধ। সবচেয়ে বেশি রাস্তা বন্ধ লাহুল এবং স্পিতি জেলায়। সেখানে ২৯২টি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। এ ছাড়াও চম্বায় ১৩২টি, মন্ডীতে ১২৬, সিরমৌরে ২৯, কিন্নৌরে ২০, কাংড়ায় ৪, উনায় ২ এবং সোলানে একটি রাস্তা বন্ধ।
মানালিতে যানজট। ছবি: সংগৃহীত।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে যানজট শুরু হয়েছে। রবিবারেও রাস্তা পরিষ্কার হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। কয়েক হাজার পর্যটক রাস্তায় আটকে। ফলে হিমাচলের একাংশ পুরো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকাররে তরফে পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে ভারী তুষারপাত এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে। শিমলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ঢাল্লিতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। হিন্দুস্তান-টিবেট রোড বরফের পুরু চাদরে ঢেকে গিয়েছে। কিন্নৌর এবং শিমলার নারকান্ডা, জুব্বল, কোটখাই, কুমারসৈন, খারাপাথর, রোহরু এবং চৌপল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তুষারপাতের কারণে। অন্য দিকে, কাংড়া, মন্ডী, সোলান, উনা, বিলাসপুর, হামিরপুরে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যে প্রায় ৭০০ রাস্তা বন্ধ। তার মধ্যে দু’টি জাতীয় সড়কও রয়েছে। ৩ নম্বর এবং ৫০৫ নম্বর জাতীয় সড়ক। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বিদ্যুৎবিভ্রাট। ফলে পর্যটকেরা আরও নাজেহাল হচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। দিল্লি থেকে আসা অক্ষয় নামে এক পর্যটক বলেন, ‘‘তিন ঘণ্টা ধরে আমরা যানজটে আটকে ছিলাম। তার পর গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই মানালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’’ অক্ষয় জানিয়েছেন, সাত কিলোমিটার হেঁটে তাঁরা মানালি পৌঁছেছেন। তৃষা নামে আরও এক পর্যটক বলেন, ‘‘গাড়িতেই সারারাত কাটাতে হয়েছে আমাদের।’’ আটকে পড়া পর্যটকদের দাবি, ট্যাক্সিচালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন। তুষারপাতের কারণে গাড়িও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। আর সেই সুযোগে ট্যাক্সিচালকেরা ২০ কিলোমিটার দূরত্ব যাওয়ার জন্য ১০-১৫ হাজার টাকা ভাড়া চাইছেন।