তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা। —ফাইল চিত্র।
শুনানির জন্য ডেকে হয়রান করা হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ তুললেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানির জন্য রবিবার ডাকা হয়েছিল শশীকে। শুনানিকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
মন্ত্রীর বক্তব্য, তাঁর নাম ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে। তার পরেও তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে শুনানিতে। তিনি নথি হিসাবে আধার কার্ড দেখিয়েছেন। কিন্তু এর পরেও তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ১১টি নথির মধ্যে কিছু আছে কি না। এতেই অসন্তুষ্ট মন্ত্রী। কলকাতায় কেশব অ্যাকাডেমির শুনানিকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে ক্ষুব্ধ শশী বললেন, “আমি পাসপোর্ট দেখাব না। এটা আমার প্রতিবাদ।”
শুনানিকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে নিজের এনুমারেশন ফর্ম তুলে দেখান তৃণমূল বিধায়ক। কমিশনের পাঠানো নোটিসও তাঁর হাতে ছিল। মন্ত্রী বলেন, “আমার বাড়িতে চার জন সদস্য। স্বামী-স্ত্রী, দুই মেয়ে। তিন জনকে ডাকা হয়নি। আমাকেই ডাকা হল। নোটিসে বলা হয়েছে, আপনি ঠিক মতো তথ্যপূরণ করেননি। কিংবা আপনার আত্মীয়ের তথ্যপূরণ করেনি। যে কারণে আপনি যে বৈধ ভোটার, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। সেই কারণে আমি হিয়ারিঙে আসুন।”
কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শশী বলেন, “হিয়ারিঙে আসার সময়ে বলা হয়েছিল অ্যাটেস্টেড কপি নিয়ে আসতে। তা-ও নিয়ে এসেছি। তার পরেও কেন ১১টি নথি চাওয়া হবে? এই প্রশ্নে আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম। আমার কাছে ১১টি নথিতে কোথাও নাম-বানান কিছুই ভুল নেই। এটা হ্যারাসমেন্ট। এটা ঠিক হল না। এটা পশ্চিমবঙ্গের সিইও-কে দেখতে হবে।”
বস্তুত, এসআইআর-এর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিক ভাবে প্রশ্ন তুলে যাচ্ছে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার এই নিয়ে বিঁধেছেন কমিশনকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির মধ্যে আঁতাতের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। রবিবার শশী বলেন, “আমরা তৃণমূলের থেকে যে প্রতিবাদগুলি করতাম, তা সম্পূর্ণ বৈধ। আজ আমি নিজেকেই একটি উদাহরণ হিসাবে রাখছি।” তাঁর প্রশ্ন, ২০০২ সালে নাম থাকার পরেও কেন শুনানিতে গিয়ে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে? এই প্রশ্ন তুলে শশীর সন্দেহ, “তার মানে তাদের কাছে নিশ্চয়ই এই নির্দেশাবলী এসেছে।”
শুনানিকেন্দ্রে হয়রানির অভিযোগ তুলে শশী বলেন, “আমি হাজারটা নথি দিয়ে দেব। মাধ্যমিক কেন, আমার আরও উচ্চ পড়াশোনা করা আছে। কিন্তু আমি কেন দেখাব! আমি পাসপোর্ট দেখাব না। এটা আমার প্রতিবাদ। তিন তিন বার নির্বাচিত হওয়া এক জন বিধায়কের নাম তালিকায় তুলবে কি না ওরা দেখুক। নিজে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। বছরের পর বছর ভোট দিয়েছি।”