জাতীয় সড়কের টোল প্লাজ়ার বার্ষিক পাসের খরচ বাড়ছে। —ফাইল চিত্র।
ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাসের (ফাস্ট্যাগ অ্যানুয়াল পাস) দাম বাড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের অধীন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাস নিতে হলে অ-বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকদের এ বার থেকে ৩০৭৫ টাকা করে দিতে হবে। আগে এই পাসের দাম ছিল ৩০০০ টাকা। অর্থাৎ, বার্ষিক পাসের দাম ৭৫ টাকা বাড়ানো হল। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে।
জাতীয় সড়ক পেরোতে গেলে যে কোনও গাড়িকে নির্দিষ্ট পরিবহণ শুল্ক (টোল ট্যাক্স) দিতে হয়। সেই পদ্ধতি সহজ করতে অ-বাণিজ্যিক গাড়িগুলির জন্য ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাস চালু করেছিল এনএইচএআই। গত বছর ১৫ অগস্ট থেকে এই পাস চালু হয়। অত্যধিক শুল্কও এর মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব। ১২ মার্চের নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাস কিনতে ৩০৭৫ টাকা করে লাগবে।
ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাসের নিয়ম অনুযায়ী, অ-বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত গাড়ির সক্রিয় ফাস্ট্যাগ থাকলেই এই পাস কিনতে পারবেন মালিক। এটি এক বছরের জন্য বৈধ থাকবে। সর্বোচ্চ ২০০ বার এই পাসের অধীনে জাতীয় সড়ক পেরোনো যাবে। যদি এক বছর সময়সীমার আগেই কোনও গাড়ির ২০০ বার যাতায়াত সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে টাকা দিয়ে পাসটি পুনর্নবীকরণ করতে হবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকেই এই পাস কেনা যায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর এই পাসের দাম পরিবর্তিত হয়।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক টোল ফি-এর জন্য ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাস ব্যবহার করছেন। জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী ২৮ শতাংশ গাড়ির মালিক এই পাস গ্রহণ করেছেন। আগামী দিনে সংখ্যা আরও বাড়বে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
বৈদ্যুতিন প্রক্রিয়ায় টোল লেনদেনের জন্য ২০১৬ সালে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত ১১.৮৬ কোটি ফাস্ট্যাগ নথিভুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে এই মুহূর্তে সক্রিয় রয়েছে ৫.৯ কোটি ফাস্ট্যাগ। তবে ফাস্ট্যাগ বার্ষিক পাস সমস্ত টোল প্লাজ়ায় বৈধ নয়। জাতীয় সড়ক এবং জাতীয় এক্সপ্রেসওয়েগুলিতে ১১৫০টি টোল প্লাজ়ায় এই পাস কার্যকরী। অন্য সড়কে ফাস্ট্যাগের সাধারণ নিয়মেই টাকা কাটা হয়।