পশ্চিমবঙ্গে এখনও এসআইআর-এর কাজ শেষ হয়নি। ছবি: পিটিআই।
পশ্চিমবঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকাই তৈরি হয়নি! কিন্তু রবিবারই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে ভোটের সূচি জানাবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।ভোটঘোষণার পর সোমবারই রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। এখনও এ রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। একটি তালিকা কমিশন প্রকাশ করেছে বটে। তাতে এখনও ৬০ লক্ষাধিক নাম ‘বিবেচনাধীন’। কমিশন সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহে একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে সবটাই আদালতের হাতে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির বিবেচনা করছেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। আপাতত ৭০০ জনের বেশি আধিকারিক এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তাতে ‘বিবেচনাধীন’ ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। শনিবার পর্যন্ত খবর, আরও প্রায় ১৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। বেশ কিছু জেলায় বিবেচনাধীন তালিকা নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও কয়েকটি জেলায় কাজ অনেকটা বাকি। কোথায় কতটা কাজ এগোল, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রতি দিন সে বিষয়ে খবরাখবর নিচ্ছেন।
কমিশন সূত্রে খবর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো কিছু জেলায় ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে। সম্পূর্ণ ভোটার তালিকাও তৈরি করে দেওয়া যাবে। তবে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহে এখনও অনেকটা কাজ বাকি। এই জেলাগুলিতে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় নামের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি ছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম ছিল। ২৮ তারিখ কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে মোট ‘যোগ্য’ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন।
বিবেচনার কাজ শেষ হলে প্রধান বিচারপতি সেই ভোটার তালিকা কমিশনের কাছে জমা দেবেন। কমিশন তা প্রকাশ করবে। সূত্রের খবর, ভোটের আগে একাধিক অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তার মধ্যে একটি প্রকাশ্যে আসতে পারে চলতি সপ্তাহেই। তবে এই তালিকা প্রকাশের জন্য একটি বিশেষ সফ্টওয়ার প্রয়োজন। তার বিশেষত্ব আদালতকে জানাতে হবে। আদালত ওই সফ্টওয়ারে ছাড়পত্র দিলে তালিকা প্রকাশ করা যাবে। তা নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যের ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে রয়েছেন। সফ্টওয়ারের প্রক্রিয়া শেষ করে পরবর্তী তালিকা প্রকাশ করতে তাই আরও কিছু দিন লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে খবর, ভোটঘোষণার পরেও প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তি হবে, সেই সমস্ত নাম ভোটার তালিকায় থাকবে এবং তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘বিবেচনাধীন’ যাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই পদ্ধতি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এ বার আগের চেয়ে কম দফায় ভোট হবে। নববর্ষের পর (১৫ এপ্রিলের পর) প্রথম দফার ভোটের দিন ধার্য হতে পারে। তার মধ্যে ‘বিবেচনাধীন’ সকলের নামের নিষ্পত্তি হবে কি না, যদি না হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, এখনও স্পষ্ট নয়। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা যে কোনও নির্বাচনের প্রাথমিক শর্ত। ঝুলে থাকা ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হতে পারে না। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সুপ্রিম কোর্টকেই। ভোটঘোষণার পরেই বিষয়টি ফের আদালতে উঠতে পারে।