Pune Businessman Son Death

বিষপ্রয়োগ না কি পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে খুন, সহজ কৌশল কোনটি? কেতনকে হত্যার আগে ইন্টারনেটে খোঁজ চেতন-সিয়ার!

তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, কেতনকে ঠেলে ফেলার পর পরিবারের কাছে কী ভাবে সেটিকে দুর্ঘটনা বলে উপস্থাপিত করতে হবে, কোনও প্রশ্নের মুখে পড়লে কী কী জবাব দিতে হবে, সব কিছুর মহড়া দিয়েছিলেন দু’জনে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৫:২২
(বাঁ দিক থেকে) কেতন, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিক থেকে) কেতন, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। ছবি: সংগৃহীত।

বিষপ্রয়োগ না কি পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলা, খুনের কোন কৌশলটি সহজ হবে, কেতন অগ্রবালকে হত্যার আগে ইন্টারনেটে খোঁজ করেন সিয়া গোয়ল এবং চেতন অগ্রবাল। তদন্তকারী সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় কৌশলটিকেই বেছে নেন তাঁরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, দ্বিতীয় কৌশল বেছে নেওয়ার নেপথ্যে সিয়া এবং চেতনের স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল। তাঁরা চেয়েছিলেন ঘটনাটিকে এমন ভাবে উপস্থাপিত করা হবে যাতে সেটি কোনও ভাবেই সন্দেহের আওতায় না আসে, নিছক একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়।

Advertisement

তদন্তকারীরা এটাও জানতে পেরেছেন যে, কেতনকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার পর সিয়াই চিৎকার করে লোহাগড় দুর্গের এক নিরাপত্তারক্ষীকে ডেকেছিলেন। তাঁকে বলেছিলেন, কেউ এক জন নীচে পড়ে গিয়েছেন। এ কথা বলার পর সিয়া ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে দাবি তদন্তকারীদের। লোহাগড় দুর্গে কেতন এবং সিয়া গাড়িতে করে গিয়েছিলেন। লালরঙা সেই গাড়িটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, ঘটনার দিন চেতন নিজের বাইক নিয়ে দুর্গে গিয়েছিলেন। সেটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চেতনের একটি হুডি এবং হেডফোন-সহ বেশ কিছু জিনিসও পরীক্ষার জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মে মাসের শেষে দিকেই কেতনকে খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন সিয়া এবং চেতন। আমেরিকা থেকে এ বছরের জানুয়ারিতেই পুণেতে ফিরে এসেছিলেন কেতন। বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। তার কিছু দিন পরেই সিয়ার পরিবারের সঙ্গে কেতনের বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। বাড়ি থেকে সম্বন্ধ দেখা হচ্ছে, এ কথা চেতনকে জানান সিয়া। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, কেতনের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা দাদা সাহিলের সঙ্গেও আলোচনা করেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যখন বাগ্‌দান হয়ে যায়, তার পরই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া হয়ে ওঠেন সিয়া। ১৫ মে থেকে সিয়া এবং চেতন অনবরত ফোন এবং মেসেজে যোগাযোগ রাখা শুরু করেন।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই সময় থেকেই বিকল্প রাস্তার খোঁজ শুরু করেছিলেন সিয়া এবং চেতন। তার পরই ইন্টারনেটে খুনের নানা কৌশল খুঁজেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। বার দুয়েক খুনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর, চেতন নিজে সশরীরে হাজির থেকে এ কাজ করার পরিকল্পনা করেন বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা এ-ও সন্দেহ করছেন, কেতনকে ঠেলে ফেলার পর পরিবারের কাছে কী ভাবে সেটিকে দুর্ঘটনা বলে উপস্থাপিত করতে হবে, কোনও প্রশ্নের মুখে পড়লে কী কী জবাব দিতে হবে, সব কিছুর মহড়া দিয়েছিলেন দু’জনে।

Advertisement
আরও পড়ুন