দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি। —ফাইল চিত্র।
দিল্লির লালকেল্লার সামনে গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই নিয়ে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১। বুধবার একটি বিবৃতি জারি করে দু’জনের গ্রেফতারির কথা জানিয়েছে এনআইএ। তাঁরা হলেন জ়ামীর আহমেদ অহনগর এবং তুফালি আহমেদ ভাট। দু’জনেই জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই দু’জন লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত উমর নবিকে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
গত বছরের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার সামনে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। তাতে মৃত্যু হয় মোট ১১ জনের। আরও সাত জন গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে ব্যাখ্যা করেছিল কেন্দ্র। মূল অভিযুক্ত উমর বিস্ফোরণের সময় ঘাতক গাড়িটির চালকের আসনেই ছিলেন। ঘটনাস্থলে তাঁরও মৃত্যু হয়। একে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই ঘটনার তদন্তে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে এনআইএ। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই কাশ্মীর, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশ থেকে বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স তৈরির মশলা ও অন্যান্য বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে দেশের নানা প্রান্তে একাধিক হামলার ছক ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে নাম জড়ায় মুজ়াম্মিল গনই, শাহিন সইদ, মুফতি ইরফান-সহ কাশ্মীর ও হরিয়ানার একাধিক চিকিৎসকের। তাঁরা হামলার চক্রান্তে শামিল হয়েছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই তালিকায় এ বার জ়ামীর এবং তুফালির নামও যুক্ত হল।
এনআইএ জানিয়েছে, জ়ামীর কাশ্মীরের গন্দরবল শহরের বাসিন্দা। তুফালি থাকেন শ্রীনগরে। তাঁরা আনসার গজ়ওয়াত উল-হিন্দ নামের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। দেশের নানা প্রান্তে আরও অনেক সন্ত্রাসবাদী হামলার চক্রান্তে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে এই সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছিল এনআইএ। বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দু’জনকে গ্রেফতার করা হল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দিল্লির বিস্ফোরণকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে মত তদন্তকারীদের।