Avishek Dalmiya

আবার খেলাধুলোয় স্বচ্ছতা আনার দাবি তুললেন সিএবি-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। অভিষেক এই নিয়ে কোনও মন্তব্য বা পাল্টা চিঠি দেননি। তিনি সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৮:১১
cricket

অভিষেক ডালমিয়া। ছবি: সমাজমাধ্যম।

আর এক বার রাজ্যের খেলাধুলোয় স্বচ্ছতা আনার দাবি তুললেন অভিষেক ডালমিয়া। গত ১৩ জুন তিনি এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছিলেন। তারপর গত বুধবার সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। অভিষেক এই নিয়ে কোনও মন্তব্য বা পাল্টা চিঠি দেননি। তিনি সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন।

Advertisement

সিএবি সভাপতি থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিষেক তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘‘সিএবির সভাপতি হিসেবে আমার কার্যকালে খেলাধুলার শৃঙ্খলা ও সততা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আমি ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলাম এবং প্রায় ৫০ জনকে বরখাস্ত করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে অর্থপূর্ণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।’’

শুরুতে অভিষেক লেখেন, ‘‘আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, খেলাধুলায় সুযোগ বা দলে নির্বাচনের বিনিময়ে খেলোয়াড় অথবা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা দাবি করার আগে মানুষ যেন দুবার ভাবতে বাধ্য হয়। এখন সেই সময় এসেছে। এগুলো ঘটে না বলে দাবি করাটা একেবারেই অবাস্তব। আসল প্রশ্ন হল, এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মতো সাহস এবং সঠিক ব্যবস্থা আমাদের আছে কি না।’’

খেলোয়াড়, অভিভাবক, কোচ এবং কর্মকর্তাদের কোনো রকম ভয় ছাড়াই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর স্বাধীনতা থাকতে হবে বলে দাবি তোলেন অভিষেক। তিনি লেখেন, ‘‘যদি ভুয়া পরিচয়, জালিয়াতি করা নথিপত্র বা অন্য কোনো কারচুপির মাধ্যমে স্থানীয় যোগ্য ক্রীড়াবিদদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে, তবে সেই সত্য সামনে আসতেই হবে।’’

আরও একবার দুর্নীতিদমন হেল্পলাইন চালু করার কথা জানিয়ে অভিষেক লেখেন, ‘‘আমি আবারও বলছি, ‘অপারেশন ক্লিন-আপ’ (শুদ্ধি অভিযান)-এর সময় এসেছে। তবে কোনও ক্রীড়া সংস্থাই একা এই লড়াই লড়তে পারে না। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা একটি ডেডিকেটেড ‘স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন’ (ক্রীড়া সততা ও দুর্নীতিবিরোধী হেল্পলাইন) চালু করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ কোনও ভয় ছাড়াই অনিয়মের কথা জানাতে পারেন।’’

শেষে তিনি লেখেন, ‘‘যাঁরা উঠতি খেলোয়াড়দের শোষণ করেন, দলে ঢোকানোর জন্য টাকা দাবি করেন, সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করেন, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেন, তাঁদের মুখোশ টেনে হিঁচড়ে খুলে দিতে হবে। যোগ্যতা, সততা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে, এমন একটি ব্যবস্থার দাবিদার আমাদের খেলোয়াড়েরা।’’

Advertisement
আরও পড়ুন