FIFA World Cup 2026

মেসি, এমবাপে, হালান্ড, হ্যারি কেন! বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই জমে উঠেছে সোনার বুটের লড়াই, কে কোথায় দাঁড়িয়ে

বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সোনার বুটের লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন তারকারা। লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড থেকে হ্যারি কেন, প্রত্যেকেই রয়েছেন লড়াইয়ে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৩:৩৭
football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এ বলছে আমায় দেখ। ও বলছে আমায়। কাকে ছেড়ে কাকে দেখবেন, কাকে সমর্থন করবেন, কার জন্য গলা ফাটাবেন সেটাই বুঝতে পারছেন না ফুটবলপ্রেমীরা। সবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ হয়েছে। প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে। আর প্রথম সপ্তাহেই শুরু হয়ে গিয়েছে সোনার বুটের লড়াই। লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড থেকে হ্যারি কেন, প্রত্যেকেই রয়েছেন লড়াইয়ে। শুধু নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

Advertisement

সোনার বুটের সেরা দৌড়

বিশ্বকাপের সোনার বুটের জন্য বোধহয় এ বারই সেরা দৌড় হবে। ২০১৮ সালে সকলকে ছাপিয়ে সোনার বুট জিতেছিলেন কেন। ২০২২ সালে এই লড়াই ছিল মূলত মেসি ও এমবাপের মধ্যে। শেষ গোলে মেসিকে টপকে জেতেন এমবাপে। কিন্তু এ বার ছবিটা আলাদা।

এ বার এক বা দুই নয়, চার জন তারকা লড়াইয়ে রয়েছেন। প্রথম ম্যাচেই যে খেলা তাঁরা দেখিয়েছেন, তা আগামী এক মাসের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছে। এখনও গ্রুপ পর্বেই বাকি দুই ম্যাচ। এই চার তারকার দল যে ভাবে খেলছে, তাতে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গত ছ’টি বিশ্বকাপে সোনার বুট জিততে ফুটবলারদের গড় গোল ছিল ৬.৩। এ বার প্রথম ম্যাচে পরেই মেসি ৩ এবং এমবাপে, কেন ও হালান্ড ২ গোলের মালিক। ফলে গত ছ’বছরের গড় এ বার ভেঙে যেতে পারে। সোনার বুটের ফয়সালা হতে পারে আরও বেশি গোলে।

৪৮ দলের বিশ্বকাপে সুযোগ বেশি

এ বার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। ফলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বেশ কয়েকটি দল রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এই তারকাদের গোল করতে বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে না। শুধু গ্রুপ পর্বে নয়, রাউন্ড অফ ৩২-এও খাতায়-কলমে দুর্বল দলের বিরুদ্ধে নামতে পারেন তাঁরা। ফলে এ বার যদি প্রতিযোগিতা শেষে কারও নামের পাশে দুই অঙ্কে গোলের সংখ্যা থাকে, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শেষ বার এই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭০ সালে। ১০ গোল করেছিলেন গার্ড মুলার। ৫৬ বছর পর আবার সেই ছবি দেখা যেতে পারে।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হ্যাটট্রিকের জেরে এগিয়ে মেসি

প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম হ্যাটট্রিক। প্রথম ম্যাচের পর গোলের নিরিখে সকলের উপরে তিনি। প্রথম ম্যাচে তিন গোল করায় বিশ্বকাপে মেসির গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬তে। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের সঙ্গে শীর্ষে তিনি। পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর একটি গোল করলেই সকলকে ছাপিয়ে শীর্ষে চলে যাবেন তিনি।

এ বারই নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন মেসি। বিশ্বকাপে এর আগে দু’বার সোনার বল জিতেছেন। কিন্তু সোনার বুট জিততে পারেননি। এ বার সেই সুযোগ রয়েছে। মেসি চাইবেন এই বিশ্বকাপকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে।

মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপের

তবে স্বস্তিতে নেই মেসি। তাঁর ঘাড়ের কাছেই রয়েছেন এমবাপে। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলের সংখ্যা ১৪। গার্ড মুলারের সঙ্গে একাসনে ফরাসি তারকা। সামনে ব্রাজ়িলের রোনাল্ডো, মেসি ও ক্লোজ়ে। ফলে এমবাপের কাছেও সুযোগ রয়েছে সকলকে ছাপিয়ে শীর্ষে যাওয়ার।

মেসির এটি শেষ বিশ্বকাপ হলেও এমবাপের নয়। তাঁর বয়স ২৭। আরও অন্তত দু’টি বিশ্বকাপে খেলবেন। যদি ফর্মে থাকেন তা হলে এমবাপে হয়তো এমন গোলে পৌঁছোবেন যার ধারেকাছে কেউ পৌঁছোতে পারবে না। এই বিশ্বকাপ থেকেই সেই চড়ায় শুরু করতে চান তিনি।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইংল্যান্ডের ‘রাজা’ হ্যারি কেন

২০১৮ সালে সোনার বুট জিতলেও ২০২২ সাল ভাল যায়নি। মোট ২টি গোল করেছিলেন। এ বার প্রথম ম্যাচেই তা করে ফেলেছেন কেন। ইংল্যান্ডের এই দলে অনেক ভাল ফুটবলার রয়েছেন। ফলে কেনের উপর চাপ কম। ঘরোয়া মরসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ফর্মে ছিলেন। সেই ফর্ম দেখা গিয়েছে প্রথম ম্যাচে। বিশ্বকাপে ১০ গোল হয়েছে তাঁর। গ্যারি লিনেকারের সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাধিক গোলের তালিকায় শীর্ষে তিনি। লিনেকারকে টপকে যেতে পারেন পরের ম্যাচেই।

কেনের বয়স ৩২। আরও একটি বিশ্বকাপে হয়তো খেলবেন তিনি। ফলে ক্লোজ়েকেও ছাপিয়ে রাজা হওয়ার সুযোগ রয়েছে কেনের সামনে। সেই লক্ষ্যেই এ বার শুরু থেকে চনমনে দেখাচ্ছে কেনকে।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কালো ঘোড়া হালান্ড

এ বারই প্রথম বার বিশ্বকাপে নেমেছেন। ক্লাব ফুটবলে বহু গোল করলেও বিশ্বমঞ্চে তিনি কেমন খেলেন সে দিকে সকলের নজর ছিল। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন। হালান্ডের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা বক্সের মধ্যে ঠিক জায়গায় থাকা। সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার তিনি। গোল করতে ভুল করেন না।

সবে ২৫ বছর বয়স হালান্ডের। যদি পরের দু’বার নরওয়ে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তা হলে হালান্ডের গোলের সংখ্যা অনেকটাই বাড়তে পারে। এ বার তিনিই কালো ঘোড়া। মেসি, এমবাপে বা কেনের ঘাড়ে যে চাপ রয়েছে তা হালান্ডের নেই। ফলে ফুরফুরে মেজাজে খেলতে পারবেন তিনি। প্রথম বারই যদি সকলকে ছাপিয়ে হালান্ড সোনার বুট জেতেন তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন