Budget Session of Parliament

বিরোধীদের বিক্ষোভে আবার অচল বাজেট অধিবেশেন, সোমবার পর্যন্ত মুলতুবি হল রাজ্যসভা এবং লোকসভা

চলতি বাজেট অধিবেশনে ৬৫ দিন ধরে ৩০ দিন সভা হওয়ার কথা। প্রথমার্ধ ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিরতির পরে উভয় কক্ষ ৯ মার্চ আবার বসবে লোকাসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৩
আবার অশান্তি সংসদে।

আবার অশান্তি সংসদে। ছবি: পিটিআই।

বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে শুক্রবারও মুলতুবি হয়ে গেল সংসদের দুই কক্ষ। বাজেট অধিবেশনের পঞ্চম দিনে সংসদের দুই কক্ষই মুলতুবি করা হয়েছে চলতি সপ্তাহের জন্য। সোমবার আবার বসবে লোকসভা ও রাজ্যসভা। ফলে নিষ্ফলা বাজেট অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহের বড় সময়টাই।

Advertisement

সভা মুলতুবির পরেও শুক্রবার সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিরোধীরা। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে দেশের কৃষকদের বিপন্ন করে তোলা এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। চলতি বাজেট অধিবেশনে ৬৫ দিনের মধ্যে ৩০ দিন সভা হওয়ার কথা। প্রথমার্ধ ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিরতির পরে ৯ মার্চ আবার বসবে লোকাসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। ২ এপ্রিল শেষ হবে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব।

সংঘাতের শুরু গত সোমবার বাজেট অধিবেশন অধিবেশনের গোড়া থেকেই। সভা শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “ওরা দেশপ্রমিক হতে পারল না।” তার পর বক্তৃতা করতে উঠে লোকসভার বিরোধী দলনেতা প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’-র একাংশ পড়তে শুরু করেন। ২০২৪ সালে বইটির আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ তা আর হয়নি। যদিও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেই বইটির একাংশ বিভিন্ন সংবাদসংস্থা প্রকাশ করে দেয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নরবণে। তাঁর ওই বইয়ের অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজ়িনে। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিঙের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল।

রাহুল বক্তৃতা করতে উঠে নরবণের বই থেকে কেবল ‘ডোকলামে চিনের ট্যাঙ্ক’ অংশটি পড়তে শুরু করেন। তার পরেই নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ এনডিএ মন্ত্রী-সাংসদেরাও একযোগে আপত্তি জানালে স্পিকার ওম বিড়লা সংসদীয় বিধির উল্লেখ করে রাহুলকে কোনও বইয়ের অংশ উদ্ধৃত না-করে বক্তৃতা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরেই সরকার ও বিরোধী পক্ষের সংঘাতের পারদ চড়তে শুরু করে। এর পরে সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এর পরেই অভিযোগ ওঠে আমেরিকার কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার খুলে দিতে চলেছে মোদী সরকার।

এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির খসড়া কেন প্রকাশ করা হয়নি তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ঘোষণা ছিল বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবি বক্তৃতা করবেন। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যে স্পিকার সভা মুলতুবি করে দেওয়ায় সেই বক্তৃতা বাতিল হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমার কাছে সুনির্দিষ্ট খবর ছিল, কংগ্রেস সাংসদেরা সভায় অপ্রত্যাশিত আচরণ করতে পারেন। তাই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আসতে নিষেধ করেছিলাম।’’ মোদীর বক্তৃতা ছাড়াই লোকসভায় ধ্বনিভোটে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেয় শাসকপক্ষ। যদিও বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় প্রস্তাবের পক্ষে বক্তৃতা করেছেন মোদী।

Advertisement
আরও পড়ুন