Madhya Pradesh Farmer

‘কাল মেয়ের বিয়ে’! ফসল বিক্রি করতে না পেরে হাউ হাউ করে কান্না মধ্যপ্রদেশের কৃষকের

গুনা জেলার ওই ফসল মান্ডিতে প্রতি দিন সকালে ফসলের নিলাম হয়। সেখানে কৃষকেরা তাঁদের ফসল নিয়ে আসেন। ব্যবসায়ীরাও আসেন সেই ফসল কিনতে। নানা দরে সেই ফসল নিলাম হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১১:০৪
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক গিরিরাজ যাদব। ছবি: সংগৃহীত।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষক গিরিরাজ যাদব। ছবি: সংগৃহীত।

হাউ হাউ করে কাঁদছেন এক কৃষক, এক কন্যার বাবা। ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার মিনতি করছেন, ‘‘দয়া করে আমার ফসল কিনুন। আমার টাকার খুব প্রয়োজন। কাল আমার মেয়ের বিয়ে।’’ এমনই এক দৃশ্য ধরা পড়েছে মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার নানাখেড়ি কৃষি উৎপাদন মান্ডিতে।

Advertisement

গুনা জেলার ওই ফসল মান্ডিতে প্রতি দিন সকালে ফসলের নিলাম হয়। সেখানে কৃষকেরা তাঁদের ফসল নিয়ে আসেন। ব্যবসায়ীরাও আসেন সেই ফসল কিনতে। নানা দরে সেই ফসল নিলাম হয়। মঙ্গলবার নানাখেড়ি মান্ডিতে সর্ষে এবং ধনে নিয়ে গিয়েছিলেন কৃষক গিরিরাজ যাদব। ট্র্যাক্টর ভাড়া করে সেই ফসল নিয়ে এসেছিলেন মান্ডিতে। কিন্তু ফসলের দাম নিয়েই শুরু হয় গন্ডগোল। গিরিরাজের অভিযোগ, ধনে প্রতি কুইন্টাল ৫৭০০ টাকা দর উঠেছিল। কিন্তু মার্কেট ইনস্পেক্টর রাজকুমার শর্মা ইচ্ছাকৃত ভাবে রসিদে কুইন্টাল প্রতি ৩০০ টাকা কমিয়ে দাম লিখছিলেন। কেন ৩০০ টাকা কম করে দাম দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিবাদ করেন গিরিরাজ। তার পরেই শুরু হয় কথা কাটাকাটি। হুলস্থুল পড়ে যায় মান্ডিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মার্কেট ইনস্পেক্টর মদ্যপান করে এসেছিলেন। তিনি কৃষকদের গালাগালি করতে থাকেন। এমনকি ব্যবসায়ীদেরও। ফলে ক্ষুব্ধ হন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ফসলের নিলাম বন্ধ করে দেন। আর তাতেই সমস্যায় পড়েন অনেক কৃষক। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন গিরিরাজও। ফসল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ব্যবসায়ীদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, নিলাম চালু করার জন্য। এমনকি মান্ডিতে উপস্থিত অন্য সরকারি আধিকারিকদেরও অনুরোধ জানান। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘‘আমার মেয়ের বিয়ে আগামী কাল। ওর বিয়ের জন্য টাকার খুব প্রয়োজন। যদি এই ফসল বিক্রি না হয়, তা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। ওর বিয়ে আটকে যাবে।’’ কিন্তু তাঁর এই আর্জি আধিকারিক বা ব্যবসায়ী, কারও কানেই পৌঁছোয়নি। নিলাম বন্ধই রাখা হয়। শেষে কৃষকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফসল নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ এসে সেই অবরোধ তুলে দেয়। মান্ডির সম্পাদক আর পি সিংহ এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কেট ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। পুরো অভিযোগ খতিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন