প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শুক্রবার ঠিকানা বদলাচ্ছে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক সাউথ ব্লকের ৭৯ বছরের পুরনো সেই ‘প্রাইম মিনিস্টার্স অফিস’ (‘পিএমও’ নামে যা পরিচিত)। সেন্ট্রাল ভিস্তায় তিনটি ভবনবিশিষ্ট একটি নুতন কমপ্লেক্সে এ বার থেকে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরের কাজ। সেই কমপ্লেক্সের নাম ‘সেবাতীর্থ’।
বায়ুভবনের অদূরে সেন্ট্রাল ভিস্তার ‘এগ্জ়িকিউটিভ এনক্লেভ ওয়ান’-এর তিনটি ভবনের একটিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন দফতর। সেটির নাম ‘সেবাতীর্থ’। পাশের দু’টি ভবনের নাম ‘সেবাতীর্থ-২’ এবং ‘সেবাতীর্থ-৩’। সেখানে হবে ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দফতর। সরকারি সূত্রের দাবি, ‘জনসেবা’ বা ‘সেবার চেতনা’র বার্তা দিতেই এই বদল। ঠিকানা বদলের আগে সাউথ ব্লকের পুরনো পিএমও-তে শেষ বারের মতো মন্ত্রিসভার বৈঠক করবেন মোদী। তার পরেই হবে দফতর স্থানান্তরের কাজ।
মোদীর দফতরের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর দেড়টায় তিনি সেবাতীর্থ এবং কর্তব্যভবন-১ ও কর্তব্যভবন-২-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এর পরে সন্ধে ৬টায় সেবাতীর্থে এক কর্মসূচিতে তিনি বক্তৃতা করবেন। কর্তব্য ভবন ১ ও ২-তে কেন্দ্রীয় অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কর্পোরেট, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, সার ও রসায়ন এবং আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি স্থানান্তরিত হচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এই দু’টি ভবনের মধ্যে থাকবে ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থা।
প্রসঙ্গত, মোদী সরকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে ১০টি নতুন বহুতল সচিবালয় ভবন তৈরি করে সেখানে সমস্ত মন্ত্রক সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নর্থ ব্লক থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রকের কিছু অধীনস্ত দফতর সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে তৈরি কর্তব্য ভবনে সরে গিয়েছে। বস্তুত, গত ১৪ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে ঠিকানা বদলের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ক্যাবিনেটসচিব টিভি সোমনাথ এ ব্যাপারে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) প্রধানদের সঙ্গে সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডেভেলপমেন্ট (সিপিডব্লিউডি) নির্মিত সেবাতীর্থ ২-এ জরুরি বৈঠকও করছেন।নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক খালি হয়ে গেলে সেখানে সংগ্রহশালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
১৯১১ সালে কলকাতা থেকে ব্রিটিশেরা দেশের রাজধানী দিল্লিতে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে রাইসিনা হিলসের উপরে তৈরি হয়েছিল নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক। এত দিন সেখানেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, অর্থ মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, কর্মিবর্গ দফতর। নর্থ ব্লক-সাউথ ব্লক ‘বেঁচে গেলেও’ স্বাধীনতার পরে তৈরি শাস্ত্রী ভবন, নির্মাণ ভবন একে একে ভাঙা পড়তে পারে। নর্থ ব্লকের পিছনে দারাশুকো রোডে তৈরি প্রথম এগজ়িকিউটিভ এনক্লেভে প্রধানমন্ত্রীর নতুন দফতরের অদূরের তৈরি হবে তাঁর নতুন বাসভবনও। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাতারাতি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ঠিকানা বদলে গিয়েছিল। রেস কোর্স রোডের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী বাংলোর রাস্তাটির নাম লোককল্যাণ মার্গ হয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁর ঠিকানা বদল হয়েছিল।