Pune Businessman Son Murder Case

চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানত সিয়ার পরিবার? উত্তর পেতে বাবা-মা-দাদাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের

ব্যবসায়ীপুত্র কেতনকে কেন খুন করেন সিয়া-চেতন, আসল ‘মোটিভ’ খুঁজতে নানা দিকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। জেরায় সিয়া-চেতন দু’জনেই নিজেদের প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৯:১৫
Police interrogated Siya Goyal\\\\\\\\\\\\\\\'s father, mother, and elder brother for five hours

(বাঁ দিকে) চেতন চৌধরী এবং সিয়া গোয়ল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

চেতন চৌধরীর সঙ্গে মেয়ে সিয়ার প্রেমের সম্পর্কের কথা কি জানত গোয়ল পরিবার? যদি জানত, তবে কেন কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিল তারা? কেতন অগ্রবাল পরিবারের কাছে কি চেতন-সিয়া সম্পর্কের কোনও খবর ছিল? কী ভাবে সিয়া-চেতনের আলাপ? এই সব নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিয়ার বাবা, মা, দাদাকে শনিবার টানা পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। তার আগে শুক্রবার সিয়ার দাদা সাহিল গোয়লকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

ব্যবসায়ীপুত্র কেতনকে কেন খুন করেন সিয়া-চেতন, আসল ‘মোটিভ’ খুঁজতে নানা দিকে অনুসন্ধান করছে পুলিশ। জেরায় সিয়া-চেতন দু’জনেই নিজেদের প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং জবানবন্দি থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, পরিবারের ভয়ে কেতনের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন সিয়া। তবে তার পর থেকেই প্রেমিক চেতনের সঙ্গে কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি। কী ভাবে নিজের বাগ্‌দত্তা কেতনকে খুন করা যায়, তার জন্য ইন্টারনেটে সার্চ করেন সিয়া। বিষ খাইয়ে না কি পাহাড়ের কিনারা থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুন করা সহজ এবং ধরা পড়ার সম্ভাবনা কোন ক্ষেত্রে কম— তা সার্চ করেন সিয়া-চেতন, খবর পুলিশ সূত্রে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিকল্প বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। কারণ, এতে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসাবে দেখানো সম্ভব ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক ভাবে পুলিশের নজর সে দিকেই ঘুরিয়েছিলেন সিয়ারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিয়ার জবানবন্দিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় প্রকৃত বিষয় প্রকাশ্যে আসে।

খুনের বিষয় প্রকাশ্যে আসার পরই নানা তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়া তাদের জানিয়েছেন, চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তাঁর পরিবারকে জানানোর চেয়ে কেতনকে খুন করা সহজ ছিল তাঁর কাছে। জেরায় সিয়া দাবি করেছেন, তিনি অন্তত তিন বছর সময় চেয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, কেতনের মৃত্যু হলে সেই সময় তিনি পেয়ে যাবেন এবং চেতনের সঙ্গে নতুন জীবন তৈরির পরিকল্পনা করে ফেলতে পারবেন।

সিয়ার এই বয়ানকে সামনে রেখে গোয়ল পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যদিও সিয়ার দাদা সাহিলের দাবি, সিয়া যদি চেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানাতেন, তবে কখনওই তাঁরা কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করতেন না। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে সত্যিই মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি গোয়ল পরিবার? একসঙ্গে সিয়া-চেতনের একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সেই প্রশ্ন আরও বেশি করে ভাবাচ্ছে। প্রসঙ্গত, সিয়ার দাদা সাহিলের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন চেতন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সেই সূত্রেই চেতনের সঙ্গে আলাপ। তার পর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া এবং চেতনের এই ছবি ও কয়েকটি ভিডিয়ো পুলিশের হাতে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়া এবং চেতনের প্রথম দেখা হয়েছিল গত অক্টোবরে দীপাবলির পার্টিতে। দু’জনের ‘কমন’ বন্ধুর মাধ্যমে আলাপ। তার পরে প্রায়ই নানা জায়গায় সিয়া-চেতনকে একসঙ্গে দেখা যেত। আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে তা সিয়ার বাবা-মাও জানতে পারেন। ‘দৈনিক ভাস্করের’ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা সরাসরি মেয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল গোয়ল পরিবার। কিন্তু সে সময় সিয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। চেতন ‘ভিন্ন বর্ণের’ হওয়ায় কি ভয় পেয়েছিলেন সিয়া, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেই প্রশ্নের উত্তর গোয়ল পরিবারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হতেই সিয়ার পরিবার মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রের খোঁজ করতে থাকে। সেই সূত্রে কেতনের সন্ধান পায় তারা। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সব দিক বিবেচনা করে সিয়ার জন্য কেতনকে পছন্দ করেছিল গোয়ল পরিবার। বাগ্‌দানও করিয়ে ফেলা হয়। নভেম্বরে উদয়পুরে তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় কেতনকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না সিয়া। কিন্তু কখনওই প্রকাশ্যে পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। কেতনকে খুনের পূর্ববর্তী ঘটনা সম্পর্কে জানতে সিয়ার পরিবার এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে।

Advertisement
আরও পড়ুন