Pune Businessman Son Murder Case

পুণের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর পুত্রকে বিয়ের জন্য কি ‘চাপ’ দেওয়া হয় সিয়াকে? ধৃত তরুণীর বাবা-মা-দাদাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ

সিয়া বা চেতনের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। খুনের ‘মোটিভ’ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কেতনকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না বলেই কি খুনের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন সিয়া?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৯:৪৬
Police summon Siya Goyal\\\\\\\\\\\\\\\'s parents, brother for questioning

(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল এবং সিয়া গোয়ল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের খুনে অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়ল। খুনের নেপথ্য কারণ খুঁজতে মরিয়া পুলিশ। প্রকাশ্যে আসছে নানা তথ্য। সেই কারণের কিনারা করতে এ বার সিয়ার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করল লোণাবলা গ্রামীণ থানার পুলিশ। শুধু তাঁরা নন, তাঁদের পুত্র তথা সিয়ার দাদা সাহিল গোয়লকেও আবার তলব করা হয়েছিল। শুক্রবারও সাহিলকে টানা ১০ ঘণ্টা জেরা করেছিলেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক করেছিল গোয়ল পরিবার। দু’জনেই বিয়েতে রাজি ছিলেন। তবে গত ১৮ জুন লোহাগড় দূর্গে ঘুরতে গিয়ে কেতনের মৃত্যুর পরই তাঁর সঙ্গে সিয়ার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত সিয়া ছাড়াও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, সিয়া-চেতন মিলে কেতনকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কেতনকে নিয়ে সিয়ার লোহাগড়ে যাওয়া ছিল পরিকল্পনার অংশ। পুলিশের দাবি, এই খুনের ঘটনায় সিয়া এবং চেতনের যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

সিয়া বা চেতনের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। খুনের ‘মোটিভ’ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়া দাবি করেছেন, তিনি বিয়ে করতে রাজি নন, তা পরিজনদের বলার সাহস পাননি। তার থেকে কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া সহজ ছিল। যদিও পুলিশের জেরায় সিয়ার দাদা সাহিল জানিয়েছেন, সিয়া যদি চেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানাতেন, তবে কখনওই তাঁরা কেতনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করতেন না।

সাহিলের দাবির পর কেতন-হত্যারহস্যের ‘মোটিভ’ নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সেই ধন্দ দূর করতেই সিয়ার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। শুধু তাঁরা নন, সিয়ার দাদাকে শনিবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সিয়ার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলেও পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া এবং চেতনের ফোন ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন অন্যতম ‘অস্ত্র’ সিয়া-চেতনের ফোনের চ্যাট। পুলিশের মতে, কেতনের মৃত্যুর আগে এবং পরে, সিয়া ও চেতনের মধ্যে মোবাইলের চ্যাটে কী কী কথা হয়েছে, তা মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি ফোনের ‘রিসাইকেল বিন’ও খালি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই চ্যাট উদ্ধার করা সম্ভব হলে খুনের ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা সম্পর্কে আভাস মিলতে পারে।

সিয়া-চেতনের সম্পর্ক তিন বছরের। দু’জনের সম্পর্কের বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও কি টের পাননি কেতন বা তাঁর পরিবারের সদস্যেরা? কেতনের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বাগ্‌দানপর্ব সেরে ফেলেছিলেন সিয়া। তার পর থেকে কেতনের বাড়িতে যাতায়াত ছিল তাঁর। কেতনের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হওয়ার নেপথ্যে কি পরিবারের চাপ, না কি অন্য কারণ, তা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।

Advertisement
আরও পড়ুন