(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল। (মাঝে) সিয়া গোয়েল। চেতন চৌধরী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
বোন সিয়া যদি চেতন চৌধরীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা জানাতেন, তা হলে আপত্তি করতেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমনটাই দাবি করেছেন সিয়া গোয়েলের দাদা সাহিল গোয়েল। তাঁর এই বক্তব্যে কেতন অগ্রবালের হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিল। আরও একটি ধন্দ তৈরি হল তদন্তকারীদের মনে। কারণ, সিয়া জেরায় দাবি করেছিলেন, পরিবারের কাছে নিজের সম্পর্কের কথা বলার চেয়ে বাগ্দত্ত কেতনকে খুন করা সহজ মনে হয়েছিল তাঁর। সেটাই কি ছিল কেতনের খুনের ‘মোটিভ’? কিন্তু সিয়ার দাদার দাবি সঠিক হলে হত্যার এই ‘মোটিভ’ নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়ার দাদা সাহিল জিজ্ঞাসাবাদের সময় দাবি করেছেন, তাঁর বোন যে কেতনকে বিয়ে করতে চান না, তা এক বারও পরিবারের কাউকে বলেননি। ২০ বছরের তরুণী যে বাগ্দানে রাজি নন, সে কথাও জানাননি, দাবি সাহিলের। পুলিশের কাছে সাহিল এ-ও দাবি করেছেন, সিয়া চেতনকে বিয়ে করার কথা বললে তাঁরা আপত্তি করতেন না। উল্টে বিয়ে দিয়ে দিতেন। তদন্তকারীদের একটি সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে সাহিল দাবি করেন, ‘‘চেতনকে নিয়ে আমাদের পরিবারের কেন সমস্যা থাকবে? আমাদের জাত, সম্প্রদায় এক। চেতনও ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে। আমাদের মতোই সচ্ছল।’’
যদিও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চেতনের সঙ্গে সিয়ার এই সম্পর্কের কথা তাঁর পরিবারের সকলেই জানতেন। সেই সম্পর্কের কথা জানার পরেই তাতে আপত্তি জানিয়েছিল সিয়ার পরিবার। সূত্রের খবর, আর্থিক অবস্থার দিক থেকে চেতন তাদের সমতুল্য নন, এই ধারণার বসবর্তী হয়ে সিয়াকে চেতনের থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল পরিবার। কিন্তু গোপনে দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। তবে সাহিল সে কথা মানতে চাননি। তিনি দাবি করেছেন, এ সব কিছুই জানতেন না।
নিহত কেতনের পরিবারেরও দাবি, চেতনের সঙ্গে সিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না। সিয়া যে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না, সে কথাও তাঁর পরিবার তাঁদের জানায়নি। কেতনের বাবা একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমরা যথেষ্ট সচ্ছল, সমৃদ্ধশালী পরিবার। আমার ছেলের জন্য আরও অনেক পাত্রী পেতাম।’’
তদন্তকারী সূত্রের খবর, কেন কেতনকে খুন করতে হল, এই প্রশ্নও করা হয়েছিল সিয়াকে। সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্ট বলছে, সিয়া জবাবে পুলিশকে জানান, কেতনকে বিয়ে করতে চান না, এটা পরিবারকে বলার চেয়ে তাঁকে খুন করা অনেক সহজ ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, সিয়া এ-ও দাবি করেছেন, নিজের পরিবারকে আঘাত করতে চাননি। তাই চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি।
গত ১৮ জুন কেতনকে লোণবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে খুন করার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কেন খুন করা হয়েছিল ২৬ বছরের কেতনকে, সেই নিয়ে ধন্দ এখনও স্পষ্ট হচ্ছে না।