এআই সম্মেলনে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে ঢুকে কংগ্রেস কর্মীদের খালি গায়ে বিক্ষোভ নিয়ে এ বার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরপ্রদেশের মেরঠের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতার মাঝে এআই সম্মেলনে বিক্ষোভ প্রদর্শন নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর দাবি, বিশ্বের কাছে ভারতের মাথা হেঁট করেছে শতাব্দীপ্রাচীন রাজনৈতিক দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ‘নোংরা এবং নগ্ন’ রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেছে কংগ্রেস, অভিযোগ মোদীর। একই সঙ্গে মুখ খুললেন ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়েও। প্রধানমন্ত্রীর মতে, তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর মা-কেও রেহাই দেয় না কংগ্রেস।
শুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপম প্রেক্ষাগৃহে এআই সম্মেলন চলাকালীন হঠাৎই ঢুকে পড়েন একদল যুবক। পোশাক খুলে ফেলেন তাঁরা। সেই পোশাক হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতার বিরোধিতায় চলে এই বিক্ষোভ। তবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে খালি গায়ে বিক্ষোভ দেখানো নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কংগ্রেস। প্রথম থেকে বিজেপির নেতামন্ত্রীরা সমালোচনা করছেন। এ বার এই বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন মোদী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘আপনারা তো ইতিমধ্যেই নগ্ন, তা হলে আর পোশাক খোলার প্রয়োজন কেন পড়ল?’’
মোদীর কথায়, ‘‘কংগ্রেস নেতারা সেখানে (এআই সম্মেলন) যা করেছেন, তা দেখে বোঝা যায় দেশের প্রাচীনতম দলটি আদর্শগত ভাবে কতটা দেউলিয়া এবং দরিদ্র হয়ে পড়েছে। কংগ্রেস নিজের দেশকে বদনাম করতে ব্যস্ত। দেশের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক দল আছে, যারা ভারতের সাফল্য হজম করতে পারছে না। কংগ্রেস বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানকে তার নোংরা এবং নগ্ন রাজনীতি করার জায়গায় পরিণত করেছে।’’
মোদীর কথায়, ‘‘কংগ্রেস নেতারা আমাকে ঘৃণা করেন। তাঁরা আমার কবর খুঁড়তে চান। তাঁরা আমার মাকে অপমান করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। কংগ্রেসের মনে রাখা উচিত ছিল এটা বিজেপির কোনও অনুষ্ঠান ছিল না। সেখানে বিজেপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন না। এই সম্মেলন ছিল গোটা দেশের জন্য।’’
শুক্রবারের এই প্রতিবাদ নিয়ে শুধু বিজেপি নয়, সরব অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও। রবিবারই এই বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খোলে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তথা বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক তৃণমূল। এই ধরনের কর্মসূচিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেছেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর কথায়, ‘‘আন্তর্জাতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীরা যেখানে আছেন, সেখানে এই ধরনের আচরণ জাতীয় অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দেয়। গণতন্ত্রে সকলেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্বশীলও হতে হবে।’’
শুক্রবারের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে। আদালতে ধৃতদের হাজির করিয়ে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তেরা নেপালের বিক্ষোভের মতোই একটা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দেশকে বদনাম করেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। আদালত পুলিশের আবেদন মেনে ধৃতদের পাঁচ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে। ধৃতেরা জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে রবিবার তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। ফলে আপাতত তাঁদের থাকতে হবে পুলিশ হেফাজতেই।