Rajya Sabha Election

রিসর্ট-রাজনীতি রাজ্যসভার ভোটেও! তিন রাজ্যে একটি আসনের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে সোমবার

পশ্চিমবঙ্গ-সহ অধিকাংশ রাজ্যেই ভোটাভুটি ছাড়াই রাজ্যসভার সাংসদেরা নির্বাচিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের হাতে জয়ের শংসাপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্যে একটি করে পদের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি অবধারিত হয়ে পড়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১০:০২
রাজ্যসভা ভোট চলছে দেশের তিন রাজ্যে।

রাজ্যসভা ভোট চলছে দেশের তিন রাজ্যে। —ফাইল চিত্র।

দেশের ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসন খালি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অধিকাংশ রাজ্যেই ভোটাভুটি ছাড়াই সাংসদেরা নির্বাচিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের হাতে জয়ের শংসাপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্যে একটি পদের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি অবধারিত হয়ে পড়েছে। এই তিন রাজ্য হল বিহার, ওড়িশা এবং হরিয়ানা। বিধায়কদের নিজেদের শিবিরে রাখতে দলগুলি গোপন আস্তানায় তাঁদের সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণের পরেই ফলাফল জানানো হবে।

Advertisement

বিহারে রাজ্যসভার মোট পাঁচটি আসন খালি হয়েছিল। বিধায়কসংখ্যার নিরিখে এর মধ্যে চারটি আসনে এনডিএ-র জয় নিশ্চিত। পঞ্চম আসনটিতে জয় পেতে মরিয়া এনডিএ এবং ‘ইন্ডিয়া’— দুই শিবিরই। পঞ্চম আসনে জয়ী হতে এনডিএ-র আরও তিন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। আর বিরোধী জোটের প্রয়োজন আরও ছয় বিধায়কের সমর্থন। এই পরিস্থিতিতে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-এর সমর্থন পেতে চাইছেন তেজস্বী যাদবেরা। প্রাথমিক ভাবে মিম বিহারের রাজ্যসভা ভোটে আরজেডি প্রার্থী অমরেন্দ্র ধারি সিংহকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। বিহার থেকে রাজ্যসভায় যাওয়া কার্যত নিশ্চিত নীতীশ কুমার, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের।

রাজ্যসভা ভোট নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোরগোল শুরু হয়েছে ওড়িশায়। পরিষদীয় শক্তির বিচারে সে রাজ্যের দু’টি রাজ্যসভা আসনে এনডিএ প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত। আর একটি আসন থেকে নিজেদের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারবে নবীন পট্টনায়কের দল বিজেডি। গোল বেধেছে চতুর্থ আসন নিয়ে। এই আসনে বিজেপির জয় আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছে নবীনের দল। দুই দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই চতুর্থ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে ওড়়িশার বিশিষ্ট চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকে। শনিবার সন্ধ্যাতেই ওড়িশার পারাদ্বীপে দলীয় বিধায়কদের সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে বিজেপি। ‘ক্রস ভোটিং’ (গোপন ব্যালটে বিরোধী শিবিরকে ভোট দেওয়া) রুখতে তৎপর বিজেডি-কংগ্রেসও। বিধায়কদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের এক বিধায়ক দাশরথি গোমাঙ্গের ‘খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে খবর। তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কংগ্রেস।

ওড়িশার কংগ্রেসের ১৪ জন বিধায়কের মধ্যে আট জনকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বেঙ্গালুরুতে। সেখানকার এক রিসর্টে ‘ক্রস ভোটিংয়ের’ প্রলোভন দেখিয়ে এক কংগ্রেস বিধায়ককে ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার পরেই কংগ্রেসশাসিত কর্নাটক সরকার ওড়িশার দু’জন বাসিন্দাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে।

হরিয়ানায় দু’টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে একটিতে বিজেপি, অপরটিতে কংগ্রেসের জয় কার্যত নিশ্চিত। তবে কংগ্রেসের জয়ের পথে কাঁটা ছড়াতে নির্দল প্রার্থী সতীশ নন্দলকে সমর্থন করেছে বিজেপি। দলের ৩১ জন বিধায়ককে হিমাচলের শিমলা নিকটবর্তী কুফরিতে নিয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। রবিবার তাঁদের কসৌলিতে স্থানান্তরিত করা হয়।

আগামী ১৬ মার্চ ১০টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে নির্বাচন ঘোষণা হয়েছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সাতটি রাজ্যে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। কারণ যতগুলি শূন্য আসন, তত জনই প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু ওড়িশা, বিহার ও হরিয়ানায় আসনের থেকে বেশি প্রার্থী রয়েছেন। তাই সেখানে বিধায়কদের ভোটের ভিত্তিতেই ঠিক হবে, কে রাজ্যসভায় যাবেন। রাজ্যসভার ভোটে কোনও রাজনৈতিক দল বিধায়কদের জন্য নির্দেশ বা ‘হুইপ’ জারি করতে পারে না। তাই ভোট ভাঙানোর সুযোগ বেশি। তবে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ব্যালট দেখিয়ে বাক্সে ফেলেন বিধায়কেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন