মোহন ভাগবত। — ফাইল চিত্র।
রামমন্দির কাণ্ড নিয়ে এ বার মুখ খুলে সংগঠনের অন্দরের ফাটল নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও। রামমন্দিরে চুরি নিয়ে গত শুক্রবার একটি বিবৃতি দিয়ে পরোক্ষে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে দুষেছিলেন সহকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে। তিনি নিজেও সেই মন্তব্যকে সমর্থন করেন বলে রবিবার জানান ভাগবত। এর ফলে সঙ্ঘ পরিবারের ভিতরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করা হচ্ছে।
টানাপড়েনের এই আবহে আগামিকাল বৈঠকে বসতে চলেছে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। সেখানে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও অছি পরিষদের সদস্য অনিল মিশ্রের পদত্যাগপত্র নিয়েও আলোচনা হবে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, অছি পরিষদের সদস্যেরা কি সাহস দেখিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা চম্পত রাইকে অছি পরিষদ থেকে সরাবেন? তাদের অভিযোগ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) নেতা চম্পত ওই চুরি কাণ্ডে জড়িত। ফলে নিজেদের দায় এড়াতে পারে না সঙ্ঘ পরিবার।
আগামিকাল অছি পরিষদের বৈঠকে চম্পতের ইস্তফার বিষয়টি ছাড়াও রামমন্দিরে ভক্তদের দানের টাকা চুরিকে কেন্দ্র করে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর রিপোর্ট, ২০২৫-২৬ সালের একটি আয়-ব্যয় বিবরণী নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সেই বিবরণীতে গরমিল পাওয়া গেলে বিষয়টি আলাদা ভাবে এসআইটি-র তদন্তের আওতায় আনা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে চলেছে কালকের বৈঠকে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইয়ের বক্তব্য, চম্পত রাই ভিএইচপি নেতা। সামগ্রিক ভাবে চুরি কাণ্ডে ওই নেতার ভূমিকা যে রয়েছে, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এখনও চম্পতের বিরুদ্ধে অছি পরিষদ সুনির্দিষ্ট ভাবে চুরির অভিযোগ দায়ের করে কি না, তাই এখন দেখার।
‘‘রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরি বৃহত্তর হিন্দু সমাজ এবং ভগবান রামের ভক্তদের অনুভূতি ও বিশ্বাসে গভীর আঘাত হেনেছে’’ বলে গত শুক্রবার মন্তব্য করেন হোসবলে। তিনি বলেন, ওই চুরির ঘটনা হিন্দু ভাবাবেগের জন্য বড় আঘাত। এ নিয়ে মন্দিরের দায়িত্বে থাকা ভিএইচপি নেতাদের পরোক্ষে দায়ী করেন তিনি। আজ নাগপুরে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে অনুদান চুরি কাণ্ডে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে হোসবলের উত্তরকে সমর্থন করে বলেন, ‘‘এ বিষয়ে দত্তাত্রেয় হোসবলে ইতিমধ্যেই জবাব দিয়েছেন। তাঁর মতই আমার মত।’’
হোসবলের বক্তব্যকে সমর্থন করে ভাগবতও মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে পরোক্ষে প্রশ্ন তুলে দিলেন। চুরির মামলায় চম্পত রাইয়ের মতো শীর্ষ ভিএইচপি নেতাদের জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে সঙ্ঘ পরিবারে অস্বস্তির এবং দ্বন্দ্বের মধ্যেই আগামী দিনে চম্পত গ্রেফতার হলে দু’পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনীতিকেরা।
উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের আগে রামমন্দিরে চুরির বিষয়টি যে দলের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে বড় ধাক্কা দিতে চলেছে, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন আরএসএস নেতৃত্ব। পাশাপাশি ওই চুরি কাণ্ডে ভিএইচপি নেতা চম্পতের কারণে সঙ্ঘ পরিবারের ভূমিকাও আতসকাচের তলায়। তাই মন্দিরের যাবতীয় ত্রুটি ও সেগুলির মেরামতি করার দায় পরোক্ষে অছি পরিষদের উপরে ঠেলে দিয়ে দায় এড়ানোর কৌশল খুঁজতে মরিয়া আরএসএস নেতৃত্ব।