অযোধ্যার রামমন্দির। — ফাইল চিত্র।
অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রণামীর টাকা এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। বিবৃতি জারি করে তারা জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতেই হবে। আরএসএসের মতে, এই ধরনের ঘটনা হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে, যা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। তাদের কথায়, ‘‘রামমন্দিরের ঘটনার পর যে বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার অবসান ঘটাতে হবে।’’
গত ৭ জুন প্রথম রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। অযোধ্যার রামমন্দিরে গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর কয়েক কোটি টাকা লুট হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। রামমন্দিরের কর্মচারী (সেবাদার), এমনকি মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদস্য ও পদাধিকারীদের একাংশও এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা সিটের। গত ২৫ জুন আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা সকলেই দানের টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন।
আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবালে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আরএসএস এবং সমগ্র হিন্দু সমাজ একযোগে আশা করে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ এই নিন্দনীয় ঘটনাটিকে একটি ব্যতিক্রমী বিষয় হিসাবে বিবেচনা করবে। মন্দিরের ব্যবস্থাপনায় সমস্ত ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন কর্তৃপক্ষ। তাঁর কথায়, ‘‘অযোধ্যা মন্দিরে ভগবান রামের ভক্তদের বিশ্বাস এবং ভক্তি যাতে অবিচল এবং অটুট থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপের প্রয়োজন।’’
আরএসএস বলছে, ‘‘দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা লক্ষ লক্ষ রামভক্তের অনুভূতি এবং বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে। আমরা সকলেই এই ঘটনায় গভীর ভাবে মর্মাহত এবং দুঃখিত। তদন্তে দোষী প্রমাণিত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় এনে আইন মেনে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে।’’ পাশাপাশি এই ‘কঠিন সময়ে’ হিন্দু সমাজকে ধৈর্য এবং সংযম রক্ষার বার্তা দিয়েছে আরএসএস। একই সঙ্গে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দুবিরোধী শক্তির সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
রামমন্দিরে দানের টাকা এবং সামগ্রী চুরির ঘটনার তদন্তে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। তদন্তের স্বার্থে মন্দিরে বিগত কয়েক দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৪৫ দিনের ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন সময় ওই পাঁচ অভিযুক্ত ভক্তদের দানের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী সরাচ্ছেন। অন্য দিকে, যে আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে রামমন্দির কর্তৃপক্ষ টাকা গণনার কর্মীদের নিয়োগ করেছিলেন, তারা দাবি করেছে যে তারা ওই ব্যক্তিদের বাছাই করেনি। আউটসোর্সিং সংস্থাটির দাবি, ওই ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য তাঁদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) স্থানীয় শাখার কয়েকজনের তরফে। ওই শাখাতেই রামমন্দিরের দানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী জমা করা হয়। তদন্তকারীরা সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।
চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পরই ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তাফা দেন চম্পত রাই। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) পদ থেকে ইস্তফা দেন অনিল মিশ্র। কিন্তু চম্পতের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রণামী চুরিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।