Uddhav Thackeray-Akhilesh Yadav

বাবরি ভাঙা পড়ায় ‘গর্বিত’ উদ্ধব ঠাকরের ঘনিষ্ঠ, ক্ষুব্ধ অখিলেশের দল, মহারাষ্ট্রে জোট ছাড়ার ঘোষণা

অখিলেশ সিংহ যাদবের দলের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর উদ্ধব ঠাকরের দল হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করছে। শনিবার বিরোধী জোট ছাড়ার ঘোষণা করেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি আবু আসিম আজ়মি।

Advertisement
আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:১৩
Samajwadi party quits after Uddhav Thackeray aide’s remarks on Babri demolition

গ্রাফিক: আনন্দবাজার অনলাইন।

মহারাষ্ট্রে বিরোধী জোটে ভাঙন। কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব), এনসিপি (শরদ)-র জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার কথা জানাল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। অখিলেশ সিংহ যাদবের দলের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর উদ্ধব ঠাকরের দল হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করছে। শনিবার বিরোধী জোট ছাড়ার ঘোষণা করেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি আবু আসিম আজ়মি।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত, উদ্ধবের ‘ঘনিষ্ঠ’ শিবসেনা নেতা মিলিন্দ নারভেকারের সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। শনিবার ছিল বাবর মসজিদ ধ্বংসের ৩২তম বর্ষপূর্তি। আর বাবরি ধ্বংসের সেই দিনেই নারভেকর লেখেন, “যাঁরা এই কাজ করেছিলেন (বাবরি ভাঙা), তাঁদের জন্য আমি গর্বিত।” নিজের পোস্টে বাবরি ভাঙার ছবি দেওয়ার পাশাপাশি শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে, তাঁর পুত্র উদ্ধব ঠাকরে এবং পৌত্র আদিত্য ঠাকরের ছবিও দেন নারভেকর।

তার পরেই রবিবার একটি বিবৃতি দিয়ে মহারাষ্ট্রের এসপি প্রধান আজ়মি বলেন, “সমাজবাদী পার্টি কখনও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে থাকেনি। তাই আমরা মহাবিকাশ আঘাড়ী থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছি।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “প্রয়োজনে সমাজবাদী পার্টি মহারাষ্ট্রে একা লড়বে কিন্তু সাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়ে চলা শিবসেনা (উদ্ধব)-এর সঙ্গে থাকবে না।” এই ধরনের মন্তব্যের পর শিবসেনা (উদ্ধব) এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ফারাক কী রইল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এসপি নেতা।

প্রসঙ্গত, এসপি মহারাষ্ট্রে ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র সহযোগী দল। সে রাজ্যে অখিলেশের দলের দু’জন বিধায়ক রয়েছেন। সে দিক থেকে দেখলে এসপি মহারাষ্ট্রে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনও রাজনৈতিক শক্তি নয়। কিন্তু বিরোধী জোটে কংগ্রেস, শরদ পওয়ারের এনসিপির মতো দলও রয়েছে। বিরোধী জোটে থাকা তিন দলই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক। এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রে এসপির জোট ত্যাগের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই সংসদ ভবন চত্বরে কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়া’র অন্য দলগুলির আদানি-বিরোধী বিক্ষোভে দেখা যায়নি এসপি এবং তৃণমূলকে। তার পর মহারাষ্ট্রেও বিরোধী জোট থেকে এসপি সরে দাঁড়ানোয় ‘ইন্ডিয়া’র অস্বস্তি বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত মহারাষ্ট্রের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বিজেপি, শিবসেনা (শিন্ডে), এনসিপি (অজিত)-র জোট ‘মহাজুটি’র কাছে ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র পরাজয়ের পরে।

Advertisement
আরও পড়ুন